জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘উদ্ধত আচরণ ও দুর্ব্যবহার’-এর অভিযোগ তুলে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : সোমবার সকালে বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গভবনে পুলিশের তল্লাশির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সকাল থেকে বঙ্গভবন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ দিয়ে ভর্তি করে দিল। ঘরে ঘরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দিল্লি পুলিশ এটা করতে পারে না। ওদের কোনও এক্তিয়ার নেই। এসআইআরের জেরে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের পরিবারের সদস্যরা আমাদের সঙ্গে এসেছেন। এসআইআর নামক অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দিল্লিতে এসেছেন তাঁরা। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি, এগুলি খতিয়ে দেখুন। আপনি বাংলায় এলে তো আপনার জন্য রেড কার্পেট পেতে রাখি। আর আমরা দিল্লিতে আসলে কালো কার্পেট কেন?” ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার সন্ধের দিকে নির্বাচন কমিশনের দফতরে বৈঠকে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকের পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘উদ্ধত আচরণ ও দুর্ব্যবহার’-এর অভিযোগ তুলে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়ায় আক্রান্ত ১২টি পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ, ওই প্রক্রিয়ায় একাধিক জীবিত ব্যক্তির নাম মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের।
সূত্রের খবর, বৈঠকের শুরুতেই এসআইআর প্রক্রিয়া অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ এমন অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রায় ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষ এখনও হাসপাতালে—এর দায় কার? এই সময়েই কমিশনের তরফে বারবার আলোচনায় বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারপরই পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপরও একাধিক প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। অসমে কেন এসআইআর কার্যকর হয়নি ?
শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই কেন যৌক্তিক অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে?
কেন মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হল ?
এছাড়া বিষয়গুলির আইনি দিক ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রসঙ্গ তোলেন সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, এরপরই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আপনাদের কথা শুনব কেন?”
তারপরই মেজাজ হারান মুখ্যমন্ত্রী। অগ্নিশর্মা হয়ে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাইরে বেরিয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন, “নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। সংশোধিত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
যদিও কমিশনের তরফে দাবি তৃণমূলের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। তা করে থাকলে পাল্টা সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।