দশম দীপোৎসবের আগে বিরোধীদের নিশানা যোগীর

অযোধ্যার প্রাচীন গরিমা ফিরছে। রামমন্দির, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আধুনিক নাগরিক পরিষেবা—গত কয়েক বছরে রামনগরীর আমূল পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি জানান, এ বার দশম দীপোৎসবকে ঘিরে সেজে উঠছে অযোধ্যা। সরযূর তীরে লক্ষ লক্ষ প্রদীপের আলো, রামায়ণের নানা ঘটনা নিয়ে বর্ণাঢ্য ট্যাবলো, শোভাযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ত্রেতা যুগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে।

যোগীর কথায়, সপ্তপুরীর অন্যতম অযোধ্যা ধর্মীয় আবেগ ও সাংস্কৃতিক মহিমায় দীপোৎসব উদ্‌যাপনের জন্য প্রস্তুত। প্রতিটি প্রদীপ প্রভু রামের প্রতি ভক্তির প্রতীক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে সনাতন সংস্কৃতির গৌরবও ঘোষণা করবে এই উৎসব।

তবে উৎসবের আবহেও রাজনৈতিক আক্রমণ শানাতে ছাড়েননি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৭ সালের আগের সরকারগুলির বিরুদ্ধে অযোধ্যাকে অবহেলা করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এক সময়ে রামভক্তদের উপর গুলি চালানো হয়েছিল এবং হনুমানগড়ি মন্দিরের পবিত্রতা নিয়েও অসম্মানজনক ঘটনা ঘটেছিল। যদিও এই অভিযোগগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি যোগী।

অযোধ্যার উন্নয়নের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের দিকে ঠেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রামমন্দির নির্মাণ, মহর্ষি বাল্মীকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, উন্নত রামপথ, নতুন করে সাজানো ঘাট এবং আধুনিক পরিষেবার হাত ধরে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটেছে অযোধ্যায়। শহরকে সৌরশক্তিনির্ভর নগরী হিসাবেও গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

২০১৭ সালে ১ লক্ষ ৭১ হাজার প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু হয়েছিল দীপোৎসব। যোগীর দাবি, সেই উৎসব আজ দেশ-বিদেশের কোটি কোটি রামভক্তের আবেগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এ বারও প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি চলছে।

যোগীর বক্তব্য, কয়েক শতক ধরে অযোধ্যার পুরনো গৌরব ফিরে পাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা রামভক্তদের মনে ছিল, দীপোৎসব তারই প্রতিফলন। তাঁর মতে, এই উৎসব সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদা জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার সংকল্পকেও তুলে ধরছে।