ভোট কর্মীদের পেট পুজোতে ও কমিশনের নিয়ন্ত্রণ ,খাদ্য তালিকা বেঁধে দিল কমিশন।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ভোটকর্মীদের খাবারের (যাকে আপনি ‘পেট পুজো’ বলছেন) ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু কঠোর নিয়ম ও নির্দেশিকা জারি করেছে। কমিশনের লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীদের প্রভাব থেকে কর্মীদের দূরে রাখা।
নির্বাচন কমিশনের বর্তমান নির্দেশিকা অনুযায়ী মূল বিষয়গুলি নিচে দেওয়া হলো:
১. খাবারের দায়িত্ব ও খরচ
কমিশন নির্ধারিত ভাতা: ভোটকর্মীদের খাবারের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ বা ‘ফুড অ্যালাওয়েন্স’ (Food Allowance) দেওয়া হচ্ছে। পদমর্যাদা অনুযায়ী এই ভাতার পরিমাণ প্রতিদিন ১৭৫ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত (উদাহরণস্বরূপ, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের জন্য সাধারণত ২৫০ টাকা)।
নিজস্ব ব্যবস্থা:সাধারণত ভোটকর্মীদের নিজেদের খাবারের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মূল্যে খাবারের প্যাকেট সরবরাহ করা হয়, যার খরচ ওই ভাতা থেকে মেটানো হয়।
২. রাজনৈতিক প্রভাব রোধে নিয়ন্ত্রণ
- উপহার বা আপ্যায়ন নিষিদ্ধ: কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যদি কোনো ভোটকর্মী কোনো বিশেষ প্রার্থীর আতিথেয়তা গ্রহণ করেন, তবে তাকে ‘কোড অফ কন্ডাক্ট’ বা নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের শামিল বলে গণ্য করা হয়।
- কমিশনারের নজরদারি: ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (DEO) এবং রিটার্নিং অফিসারদের (RO) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন বুথগুলোতে কর্মীদের খাবারের ব্যবস্থা সরকারি মাধ্যমেই হয়। কোনোভাবেই যেন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সেখানে খাবার সরবরাহ করতে না পারেন।
৩. পরিকাঠামো ও সুবিধা
- ভোটগ্রহণের আগের দিন (P-1 Day) এবং ভোটের দিন কর্মীরা যেন পর্যাপ্ত জল ও খাবার পান, তা নিশ্চিত করতে সেক্টর অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- অনেক জায়গায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে (Self-Help Groups) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নির্দিষ্ট সরকারি মূল্যে কর্মীদের খাবার পৌঁছে দেয়।
সবমিলিয়ে কমিশন চায় না খাবারের অছিলায় কোনো রাজনৈতিক পক্ষ ভোটকর্মীদের প্রভাবিত করার সুযোগ পাক। তাই ‘পেট পুজো’র নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি কমিশনের হাতে, যাতে উৎসবের মেজাজে ভোট হলেও কাজের নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।