দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাস্তাগুলির বেহাল দশা।দুর্ঘটনার আশঙ্কায় মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি এলাকাবাসীর

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা :সমগ্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার দৈন্যদশা ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়ে এবং দ্রুত সমাধানের আর্জি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষজন।
একদিকে বারইপুর আমতলা রোড , রাজপুর-সোনাপুর পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড, বারইপুর পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ড, বারইপুর জয়নগর কুলফি রোড এর রাস্তা বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ ও মারাত্মক গর্ত। বর্ষায় বৃষ্টির জল জমে সেই গর্তগুলি ঢেকে যায়, যার ফলে কোনোটি ডোবার আকার নেয় এবং গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
বাসিন্দাদের দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগ:
বাইক, স্কুটি বা চারচাকার গাড়ি যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভারসাম্য হারিয়ে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে। রাতে বা বৃষ্টির দিনে চলাচলের সময় বড় ধরনের জীবনহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী ও চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতায়াতকারী প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অ্যাপ-ক্যাব বা অটো-রিকশা প্রায়শই এই ভাঙাচোরা রাস্তায় ঢুকতে চায় না। কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স বা অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর গাড়ি পৌঁছানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
এদিকে সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক দেবাশিস ধর পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। বেহাল রাস্তা নিয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর।স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের রূপার দাবি, ‘‘শুধু দ্বারির রোড নয়, রাজপুর-সোনারপুর এলাকার অন্তত ২০০ রাস্তা ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। আমি নিজে যেখানে থাকি সেই ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। গাড়িতে যেখানে ৩ মিনিট লাগার কথা সেই রাস্তা পার হতেই আমার ১০ মিনিট সময় লাগছে। তা হলে বাইক বা অটোচালকদের কী অবস্থা ভাবুন!’’
কী কারণে রাস্তার এই অবস্থা? রূপার কথায়, ‘‘পথশ্রী প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় হয়েছে। ঠিকাদারদের কোটি কোটি টাকা বাকি রয়েছে। আবার অমৃত প্রকল্পে ভাল রাস্তা খুঁড়ে জলের পাইপ বসিয়ে আর ভাঙা রাস্তা সারাই হয়নি। আমি এর মধ্যে রাজনীতি ঢোকাতে চাই না। পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। পুরসভার কাছে যা টাকা রয়েছে তা দিয়ে ভাঙাচোরা অংশগুলি মেরামত করার চেষ্টা হচ্ছে। কারণ এখন বৃষ্টির মধ্যে তো নতুন করে রাস্তা তৈরি করলে বৃষ্টির জলে সেই নতুন রাস্তার ক্ষতি হবে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘জেলাশাসক-সহ সংশ্লিষ্ট দফতরে আমি নথি জমা করেছি। মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছি। রাজপুর-সোনারপুরের বেহাল রাস্তার কথা জানার পরে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাগুলি তৈরি করে দেওয়া হবে। একটু ধৈর্য্য ধরুন। আমি জানি মানুষের আমাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা। আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণ করার লক্ষ্যেই কাজ করছি।’’
এছাড়াও বেশ কিছু এলাকার সেখানে তৃণমূলের বিধায় ক থাকলেও সেখানে কিন্তু রাস্তাঘাটের মেরামতের কোন সূরাহ নেই বলে এলাকার বাসিন্দারা যেটা মনে করছে। সুরাহা চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি স্থায়ী সমাধান ও দ্রুত সংস্কারের দাবিতে রাজপুর-সোনাপুরের আবাসন কমিটি ও এলাকার অধিবাসীরা যৌথভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন
শুধুমাত্র রাজপুর সোনারপুর পৌরসভা নয় তার পাশাপাশি বারইপুর কুলপি রোড বারইপুর আমতলা রোড সহ একাধিক রাস্তার হাল ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখ চেয়ে আছেন চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছেন:
১. জরুরি ভিত্তিতে অবিলম্বে রাস্তা সারাই ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান করা হোক।
২. বর্ষাকালে সাধারণ মানুষ ও শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি যেন অগ্রাধিকার পায়।
৩. অবিলম্বে প্রশাসনিক স্তরে তদারকি করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হোক। বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করছেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং সাধারণ মানুষকে এই নিত্যদিনের প্রাণঘাতী দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবে।