গঙ্গাসাগরের ভাঙন অব্যাহত। ভাঙন মোকাবিলায় দুশ্চিন্তায় রাজ্য সরকার। কপিলমুনি মন্দিরকে বাঁচাতে গঙ্গাসাগরে পৌঁছল নেদারল্যান্ডের প্রতিনিধি দল।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রতিবছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে এবং নদী ভাঙনের জোড়া ফালায় ক্রমশ দূরত্ব কমছে সাগরের সঙ্গে কপিলমুনির মন্দিরের। বেশ কয়েকটি মন্দিরের মতনই বর্তমান মন্দিরেরও একই অবস্থা হবে এমনটাই মনে পড়ছে স্থানীয়রা। ভাঙনের জেরে বর্তমান মন্দির ও সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এমনটাই আশঙ্কা এলাকাবাসীদের। গঙ্গাসাগরের কপিলমুনি মন্দিরের সামনে সমুদ্র সৈকতে ভাঙন ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। বর্তমানে গঙ্গাসাগরের কপিলমুনি মন্দির থেকে সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ মিটার এসে দাঁড়িয়েছে। ভাঙনের জেরে ক্রমশো ছোট হয়ে যাচ্ছে সাগরদ্বীপ এবং গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণ। ভাঙন মোকাবিলা করার জন্য দুশ্চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে রাজ্য সরকারের। আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলার কথা মাথায় রেখে নদী ভাঙন রখতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে।
প্রতিবছর গঙ্গাসাগর মেলা কে কেন্দ্র করে দেশ ও বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পূর্ণার্থীরা সাগর পাড়ে এসে ভিড় জমায়।গঙ্গাসাগরের পাশাপাশি গোটা সুন্দরবনকে ভয়াবহ ভাঙন থেকে রুখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এজন্য বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিবিদদেরও সাহায্য নেওয়া হবে। গঙ্গাসাগরের সমুদ্র ভাঙন রোখার জন্য নেদারল্যান্ডের প্রযুক্তির দারস্ত রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই গঙ্গাসাগরের কপিলমুনির মন্দিরের সামনে সমুদ্র ভাঙন পরিদর্শন করতে এবং ভাঙন রাখার জন্য আগামী পরিকল্পনা নিয়ে নেদারল্যান্ড থেকে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল গঙ্গাসাগরে আসেন। নেদারল্যান্ডের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাজ্যের সেচ দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে ভাঙন রাখার জন্য একাধিক বৈঠক হয়। এই ভাঙন রোধ করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে বলে জানা গিয়েছে। নেদারল্যান্ডের প্রতিনিধি দলের এক সদস্য তিনি জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০ মিটার এবং সমুদ্র গর্ভ থেকে ৩০০ মিটার নিয়ে একটি রিং কংক্রিটের বাঁধ তৈরি করা হবে।

প্রাথমিকভাবে দৈত্যাকার ঢেউ গুলিকে উপকূলে আসার আগেই সেই ঢেউ গুলিকে ভেঙে দেয়ার জন্য পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এর ফলে দৈত্যাকার সরাসরি উপকূলের আঘাত করতে পারবে না এর ফলে ভূমিক্ষয় অনেকটাই কমে যাবে। এর পাশাপাশি কংক্রিটের বাঁধ তৈরি করে ভাঙন-রক্ষার পরিকল্পনা করা হবে। নেদারল্যান্ডের প্রতিনিধি দল গঙ্গাসাগরে পৌঁছাতে ।আশার আলো দেখছে সাগরদ্বীপের বাসিন্দারা। রাজ্যের সেচ দপ্তর ও পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা বৈঠক সেরে নেয় নেদারল্যান্ডের প্রতিনিধি দল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে গঙ্গাসাগরে নদী ভাঙন রোধ করা হবে এমনটাই জানিয়েছে রাজ্য সরকারের আধিকারিকেরা।
এ বিষয়ে হরিপদ মন্ডল গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তিনি জানান, প্রতিবছর একটু একটু করে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং নদী ভাঙ্গনের জেরে ক্রমশ ও দূরত্ব কমছে কপিলমুনি মন্দিরের সঙ্গে সমুদ্রের। প্রতিবছর গঙ্গাসাগর মেলা থেকে শুরু করে মাগি পূর্ণিমার ও মহালয়ার সময় দেশ ও বিদেশ থেকে পুণ্যার্থীদের সমাগম হয় এই শঙ্খ দর্শন কপিলমুনির পাদদেশে। সম্প্রতি নদী ভাঙন রাজ্য সরকারের মাথায় যেমন চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে তেমনি এলাকাবাসীদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে গিয়েছে। প্রতিবছর মাটি দিয়ে অস্থায়ীভাবে নদী বাঁধ নির্মাণ ফলশ্রুত হচ্ছে না। কংক্রিটের নদী বাঁধ একমাত্র সমাধান সূত্র। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ১ নম্বর স্নানঘাট থেকে ৬ নম্বর স্নানঘাট পর্যন্ত স্থায়ী কংক্রিটের নদী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেদারল্যান্ডের সমুদ্র বিশেষজ্ঞরা গঙ্গাসাগরে এসে পরিদর্শন করছে।

কীভাবে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানকে একত্রে কাজে লাগিয়ে সমুদ্র ভাঙন রোধ করার সম্ভব হবে সে বিষয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নেদারল্যান্ডের প্রতিনিধি দল। একশ কোটি টাকা ব্যয়ে এই নদী বাঁধ নির্মাণ করার কাজ শুরু হবে সম্ভবত এই কাজ সম্পন্ন হতে দু’বছর সময় লাগবে। এর ফলে এলাকাবাসীরা যেমন দুশ্চিন্তা মুক্ত হবে তেমনি কপিলমুনি মন্দিরে ভবিষ্যত সুনিশ্চিত হবে। গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অঞ্জলি সিংহ তিনি জানান, কপিলমুনি মন্দিরকে রক্ষা করার জন্য এবং এলাকাবাসীদের রক্ষা করার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেদারল্যান্ডের সমুদ্র বিশেষজ্ঞদের গঙ্গাসাগরে আনা হয়েছে। কিভাবে এই ভাঙ্গন রোধ করা যাবে সে বিষয়ে রাজ্যের সেচ দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করছে নেদারল্যান্ডের প্রতিনিধি দল। এলাকাবাসীদের দাবি স্থায়ী সমাধান। আশা করছি কয়েক বছরের মধ্যে নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে। আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলার আগে এই নদী ভাঙন রোধ করার জন্য কি ব্যবস্থা নেয় জেলা প্রশাসন সেটাই দেখার বিষয়।