‘কুকথা’ মামলায় শুভেন্দুকে ভার্চুয়াল হাজিরার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের
ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘কুকথা’ সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে শুভেন্দুকে। প্রয়োজনে তাঁকে ভার্চুয়ালি হাজিরা দিতে হতে পারে, তবে সশরীরে হাজিরা বাধ্যতামূলক নয়—বৃহস্পতিবার এমনই নির্দেশ দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মালদহ উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী তথা বর্তমান সাংসদ খগেন মুর্মুর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি সেই সময় পুলিশ সার্ভিস থেকে ইস্তফা দেন।
গত ২ জানুয়ারি চাঁচলের একটি জনসভায় ওই প্রসঙ্গ টেনে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “খগেনদাকে হারিয়ে দিত ভুয়ো ভোটে। একটা দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ অফিসার ছিল। বালুরঘাটে গেলে যাকে সকলে বলে—চরিত্রহীন প্রসূন। তিনি এখন নেতা হয়েছেন। রাজ্য সরকারের পোস্টেও আছেন। মাসে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। আবার চাঁচল-হরিশ্চন্দ্রপুরে তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটরও হয়েছেন।”
এই মন্তব্যকে সম্মানহানিকর ও ভিত্তিহীন দাবি করে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় এফআইআর দায়ের করেন তৃণমূলের সহ-সভাপতি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তাঁর নামে এমন মন্তব্য জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে দেওয়া বক্তব্য সম্প্রীতিকে আঘাত করতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁচল থানার পুলিশ শুভেন্দু অধিকারীকে তলব করে। এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আদালতের নির্দেশে আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু অধিকারী। ৬ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি।