এফআইআর দায়েরে ‘বেনিয়ম’, সোনারপুরে শুল্ক আধিকারিককে ‘মারে’ পুলিশকে ‘ভর্ৎসনা’ হাইকোর্টের।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: সোনারপুরে শুল্ক আধিকারিককে মারধরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। অসন্তুষ্ট কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ওই শুল্ক আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার সময় পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আইন মানা হয়নি।
শুক্রবার এই বিষয়ে শুনানির সময় বিচারপতি সরকারি আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এফআইআর দায়ের করে দিলেন ? ”
” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রাথমিক অনুসন্ধান হয়েছিল কি?”
”৩৫(৩) ধারায় আধিকারিককে নোটিস পাঠানো হয়েছিল কিনা ? ”
সে প্রশ্নও করেন বিচারপতি। একটিও প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি সরকারি আইনজীবী।
অক্টোবর মাসে গাড়িতে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে সোনারপুরে ওই শুল্ক আধিকারিকের সঙ্গে কয়েকজন অটোচালকের বচসা বাঁধে। পরে বিষয়টি মিটে গেলেও, অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রায় ৫০-৬০ জন দুষ্কৃতী আধিকারিকের আবাসনের বাইরে জড়ো হয়ে হামলা চালায়। দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে কার্যত তাণ্ডব চালানো হয় বলেও অভিযোগ দায়ের করা হয়। গুরুতর আহত হন ওই আধিকারিক। মারের চোটে মাথা ফেটে যায় তাঁর। হেনস্থার শিকার হতে হয় আধিকারিকের স্ত্রীকেও। পরে তাঁকে গুরুতর জখম অবস্থায় কল্যাণী এইমসে ভর্তি করা হয়।
তারপরই ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অটোচালক আজাদ আলি মণ্ডল, সুরজ আলি মণ্ডল ও অলোক মণ্ডলকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। পরে আরও আটজনকে ধরা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সকলেই আদালত থেকে জামিন পান। এফআইআরে নাম না থাকায় তাঁরা জামিনের আবেদন করেন এবং তা মঞ্জুর হয়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে আদালতে। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের পর্যবেক্ষণ, পুলিশ এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন করেছে। আদালতের নির্দেশ, আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ওই শুল্ক আধিকারিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ।
এর আগেও পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যরা। শাসকদলের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও প্রায়ই উঠে আসে। কিন্তু একজন শুল্ক আধিকারিক ও তাঁর পরিবারের উপর হামলার ঘটনায় দুষ্কৃতীদের প্রতি এতটা নরম মনোভাব কেন দেখাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন, তা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন খোদ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। যা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।