যে সরকার দেশের জণগনকে অত্যাচার করে, সেই সরকারের সেবা করতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি। এর পরিবর্তে সংগ্রামের এবং অনিশ্চিত জীবন বেছে নেন নেতাজি।

আরপ্লাস ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালে ভারত যখন পরাক্রম দিবস উদযাপন করছে, তখন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর উত্তরাধিকার শুধুমাত্র ইতিহাসের অধ্যায় নয়। বরং সার্বভৌমত্বের একটা জীবন্ত সাক্ষ্য। কয়েক দশক ধরে তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়গুলি রহস্য উস্কে দিয়েছে। কিন্তু গোপনীয়তা ক্রমেই প্রকাশ পাচ্ছে। ততই জানা যাচ্ছে যে, নেতাজি যা করেছেন তা ছিল মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ।
একেবারে সুশৃঙ্খল জীবন থেকে অন্তর্ধান। ২০১৫ এবং ২০২৬-র মধ্যে ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার নেতাজিকে নিয়ে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে।
১৯৪৭ সালের পরেও কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। সেসময় নেতাজির পরিবারের সদস্যদের কড়া নজরদারিতে রেখেছিল দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিদেশমন্ত্রকের রেকর্ড থেকে জানা যায়, ব্রিটেন, রাশিয়া এবং জাপান সহ বিভিন্ন দেশের সরকারগুলিও সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেনি।
মুখার্জি কমিশনের অনুসন্ধান বলছে, সরকারি অবস্থান তাইপেইতে ১৯৪৫ সালের বিমান দুর্ঘটনার দিকেই ইঙ্গিত করলেও, দুর্ঘটনার তত্ত্বে চূড়ান্ত প্রমাণের অভাব ছিল। রেনকোজি মন্দিরে যে ছাই ছিল, তাও নেতাজির ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
নিজের জীবন দিয়ে বীরত্বের নীলনকশার বাইরে গিয়ে ধারাবাহিক ত্যাগ স্বীকার করে গিয়েছেন। যাকে জাতীয়তাবাদের নতুন সংজ্ঞা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন নেতাজি।
১৯২১ ভারতীয় সিভিল সার্ভিস বা আইসিএস থেকে পদত্যাগ করে কর্মজীবনে বড় ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন নেতাজি। যে সরকার দেশের জণগনকে অত্যাচার করে, সেই সরকারের সেবা করতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি। এর পরিবর্তে সংগ্রামের এবং অনিশ্চিত জীবন বেছে নেন নেতাজি।
১৯৪১ সালে কলকাতায় গৃহবন্দী অবস্থায় থেকেও সেখান থেকে পালিয়ে আফগানিস্তান এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে জার্মানিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন নেতাজি। ক্রমাগত আটক হওয়ার হুমকি-হুঁশিয়ারির মধ্যেও ছদ্মবেশে তাঁর দেশত্যাগের অধ্যায় অনন্য এবং সাহসী বিপ্লবী হিসেবে তুলে ধরেছে নেতাজিকে।

সরকারি চাকরি ছেড়ে ভারতের জাতীয় সেনাবাহিনী বা আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেছিলেন নেতাজি। হাজার হাজার যুদ্ধবন্দীদের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাঁদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামীর ভূমিকায় উত্তীর্ণ করে ইংরেজ শাসকের সাম্রাজ্য কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন এই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
আধুনিক লিঙ্গ সাম্য আন্দোলনের অনেক আগে ঝাঁসির রানী রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নেতাজি। যা এশিয়ার প্রথম সম্পূর্ণ মহিলা যুদ্ধ ইউনিট ছিল। যা চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করেছিল যে স্বাধীনতা আন্দোলন নারী-পুরুষ বিভেদ বোঝে না।
সবমিলিয়ে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যদি নেতাজির বার্তা জানতে হয় তা হল- শুধুমাত্র রক্তই স্বাধীনতার মূল্য দিতে পারে। তাঁর জীবন প্রমাণ করে যে , মানুষ শেষ হয়ে গেলেও, যে উদ্দেশ্য নিয়ে মানুষটি লড়েছেন, তা হাজার হাজার মানুষের জীবনের অংশ হয়ে যায়। সেজন্যই তো আজ যখন তাঁর ১২৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে, নেতাজির অধ্যায় স্রেফ অন্তর্ধানের অধ্যায় নয়, বরং গোটা বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় আত্মসম্মানের পুনরুত্থানের অধ্যায়।