এটি আকস্মিক ঘটনা নয়, নবজাগরণ
অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক: ব্রিটিশ ভারতের একসময়ের রাজধানী কলকাতার আর সেই মর্যাদা নেই। একসময় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ-সহ বহু ইন্টারন্যাশনাল এয়ারওয়েজের বিমান নামত কলকাতায়। লন্ডন থেকে কলকাতা সরাসরি উড়ান ছিল। ভায়া দিল্লি বা মুম্বই হয়ে লন্ডন যাওয়ার প্রয়োজন হত না। স্বাধীনতা পরবর্তী সত্তর দশক পর্যন্তও কলকাতার এই দাপট অব্যাহত ছিল। পরবর্তী সময়ে ছবিটা আরও ম্রিয়মান হয়েছে। কলকাতা ছেড়েছে বহু নামিদামি সংস্থা। নতুন শতকে কিন্তু চাকা ঘুরতে চলেছে। মৃত নগরীর অপবাদ বুকে চেপে বসা কলকাতা বা পিছিয়ে বাংলা, এমন একটা ভাষ্যের মধ্যেও কোনও এক জাদুকাঠির ছোঁয়ায় যেন জেগে উঠেছে বাংলা। ঘুমিয়ে পড়া বাংলার বুকেই এখন আশার আলো দেখিয়েছে পর্যটন ক্ষেত্র। তা না হলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে ভারতের মধ্যে সব থেকে পছন্দের দ্বিতীয় গন্তব্য হয়ে উঠত না পশ্চিমবঙ্গ। ভারত সরকার প্রকাশিত ইন্ডিয়া ট্যুরিজম ডেটা কম্পেনডিয়াম ২০২৫ রিপোর্টে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণে পশ্চিমবঙ্গ উঠে উঠেছে দেশের দ্বিতীয় স্থানে। কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের নতুন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হল?
২০২৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত দেখলে বোঝা যাবে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের কীভাবে অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে। কয়েক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে যে আখ্যানটি প্রচলিত ছিল, তা ছিল মূলত নস্টালজিয়ার। এক বিলীয়মান আভিজাত্য এবং শান্ত চা-বাগান ঘেরা এক রাজ্যের গল্প। কিন্তু যদি আপনি ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান দেখেন, তবে সেই গল্পটি নতুন করে লেখা হয়েছে। এমন এক পরিবর্তনে যা অভিজ্ঞ ভ্রমণ বিশ্লেষকদেরও অবাক করে দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের বিদেশি পর্যটকদের জন্য দ্বিতীয় সর্বাধিক পরিদর্শিত গন্তব্য হিসেবে ধরা দিয়েছে। যা রাজস্থান এবং গোয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী শক্তিশালী রাজ্যগুলোকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি একটি নবজাগরণ।

দুর্গাপুজো
এই পরিবর্তনের মূল মুহূর্তটি ছিল নিঃসন্দেহে দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি প্রদান। যা একসময় একটি স্থানীয় উৎসব ছিল, তা এখন একটি বৈশ্বিক উৎসবে রূপান্তরিত হয়েছে। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং রাশিয়া থেকে শিল্প ইতিহাসবিদ, ফটোগ্রাফার এবং ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করছে। এটি বিশ্বকে এই বার্তা দিয়েছে যে বাংলা কেবল প্রাচ্যের প্রবেশদ্বার নয়, এটি নিজেই একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক গন্তব্য। এখন বাংলা শুধু সংস্কৃতি সম্পর্কের মধ্যে পড়ে না। উত্তর কলকাতার শিল্প স্থাপনাগুলোর মধ্যে দিয়ে হেঁটে সেই সংস্কৃতিকে অনুভব করা যায়।
ভৌগোলিক বৈচিত্র
আসল সাফল্য নিহিত রয়েছে রাজ্যের ভৌগোলিক বৈচিত্রের মধ্যে। বিশ্বের খুব কম অঞ্চলেই বাংলার মতো মাথা থেকে পা পর্যন্ত অভিজ্ঞতা মেলে। উত্তরে হিমালয়ের বরফাবৃত শৃঙ্গ এবং দক্ষিণে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ। মানে ম্যাপ দেখলে, উত্তর থেকে দক্ষিণে। সর্বত্র দর্শন মিলবে সবুজ ঘেরা জঙ্গল।

পাহাড়
দার্জিলিং এবং কালিম্পং-এর হোমস্টে নীতি অর্থনীতিতে বিপ্লব এনেছে। ভিড়ে ঠাসা হোটেলের পরিবর্তে পর্যটকরা সিটং বা কমলার গ্রাম এবং লামাহাটার মতো অফবিট গ্রামগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন বেশি। কোলাহলের একেবারে বাইরে বেরিয়ে নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইছেন তাঁরা। তাই পর্যটকদের কাছে ধীরে ধারে জায়গা করে নিচ্ছে হোম স্টে।

জঙ্গল
ডুয়ার্স অঞ্চলে বন্যপ্রাণী পর্যটনে ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা গেছে। জলদাপাড়ায় একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংরক্ষণ সাফল্য এবং সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আকর্ষণ পর্যটন টানছে বিপুল হারে।
ঐতিহ্য
বিষ্ণুপুরের পোড়ামাটির মন্দির এবং মুর্শিদাবাদের ঔপনিবেশিক ইতিহাস অবশেষে তাদের প্রাপ্য পরিকাঠামোগত মনোযোগ পেতে শুরু করেছে। যা একটি “হেরিটেজ করিডর” তৈরি করেছে এবং গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে।

অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড: হোমস্টে এবং ঐতিহ্য
সবচেয়ে টেকসই পরিবর্তনটি হলো পর্যটন রাজস্বের গণতন্ত্রীকরণ। হোম স্টে গুলোকে ব্যাপকভাবে প্রচার করার মাধ্যমে রাজ্য সরকার নিশ্চিত করেছে যে পর্যটনের অর্থ কর্পোরেট হোটেল চেইনের হাতে আটকে না থেকে গ্রামীণ পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই উত্তরবঙ্গে হোমস্টে বুকিং ৪০%-এরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রমাণ করে যে আধুনিক ভ্রমণকারীরা বিলাসের চেয়ে মৌলিকতাকেই বেশি পছন্দ করেন।
চ্যালেঞ্জ: শেষ মাইল
তবে এই উত্থানে আমরা যেন অন্ধ না হয়ে যাই। বাংলার পর্যটনের গল্পে এখনও কিছু কঠিন দৃশ্য রয়েছে।
সংযোগ
কলকাতা ভালোভাবে সংযুক্ত হলেও, গভীর সুন্দরবন বা সান্দাকফুর উঁচু অঞ্চলের মতো জায়গাগুলোতে পৌঁছানোর “শেষ মাইল” এখনও শারীরিকভাবে বেশ কষ্টকর।
শহুরে রক্ষণাবেক্ষণ
হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত ঔপনিবেশিক শহরগুলোর (যেমন শ্রীরামপুর এবং চন্দননগর) ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলোর জরুরি সংরক্ষণ প্রয়োজন। আমরা সময় এবং আর্দ্রতার বিরুদ্ধে দৌড়চ্ছি।
“মৌসুমী” ফাঁদ:
রাজ্যটি এখনও আর্দ্র বর্ষার মাসগুলোতে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে হিমশিম খাচ্ছে, যদিও “পাহাড়ে বর্ষা” প্রচারাভিযানগুলো এটি পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে।
ভারত সরকারের প্রকাশিত ইন্ডিয়া ট্যুরিজম ডেটা কম্পেনডিয়াম ২০২৫ রিপোর্টে প্রথম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। মারাঠা মুলুকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিদেশি পর্যটক গিয়েছে ৩৭ লক্ষ বা ৩.৭১ মিলিয়ন। পশ্চিমবঙ্গে পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গলের শোভা দেখতে এসেছেন ৩১ লক্ষ বা ৩.১২ মিলিয়ন বিদেশি পর্যটক। সেখানে যোগীর উত্তরপ্রদেশে এক বছরে পর্যটক গিয়েছে ২.২৭ মিলিয়ন। ২.২৭ মিলিয়ন পর্যটকদের পা পড়েছে মোদীর গুজরাটেও। আর পঞ্চম স্থানে রয়েছে রাজস্থান, যেখানে শেষ এক বছরে পর্যটক গেছে ২.০৭ মিলিয়ন। দেশে পর্যটন ফের সুদিনের মুখ দেখতে শুরু করেছে ২০২৪ সাল থেকে। ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে কোভিড বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হয়েছিল গোটা দুনিয়াকে। কোভিড পর্বে লকডাউন বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর অভিঘাত তৈরি করেছে। কোভিডের আগে ২০১৯ সালে যে সংখ্যায় বিদেশি পর্যটক ভারতে আসতেন, তার থেকে প্রায় ১৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২৭ লক্ষ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩১ লক্ষ। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে আগত পর্যটকদের সংখ্যা অনেকটা কমে গেছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন ২১.২ লক্ষ বাংলাদেশি। তবে ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭.৫ লক্ষে। মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে কলকাতা-ঢাকা উড়ান কমে গিয়েছিল, তার জন্যই বাংলাদেশি পর্যটক কম এসেছেন রাজ্যে। আর তার ফলেই এই সংখ্যাটা কমেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ব্রিটেন থেকে আসা পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবর্ষে যত সংখ্যক বিদেশি পর্যটক ভারত ভ্রমণে এসেছিলেন, তা প্রায় ২০১৯ সালের সমান, যা ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস থেকে ২০২২ সালের গোড়া পর্যন্ত যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই ক্ষতি সামলাতে বেশ কয়েক বছর লেগে যাবে। কোভিডের কারণে তৈরি হওয়া মন্দা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে নানাভাবে নানা দেশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বিদেশি পর্যটকদের ভারতে আগমন সেই পরিস্থিতির বদল ঘটিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাংলা বরাবরই পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পর্যটনের পীঠস্থানও বলা যেতে পারে বাংলাকে। একদিকে পাহাড়, হিমালয়ের কোলে থাকা শৈলশহর দার্জিলিংয়ের সৌন্দর্য, অন্যদিকে সুন্দরবনের গভীর অরণ্যের পাশাপাশি রয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। এছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘার বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত। এখন যার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জগন্নাথ মন্দির। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয় দিন দিঘার জগন্নাথ ধামের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর ৮ মাসের মধ্যেই ১ কোটি দর্শনার্থীর রেকর্ড করে ফেলেছে দিঘার মন্দির। একই ছবি গঙ্গাসাগরেও। পর্যটনকে আরও প্রসারিত করতে বছর বছর গঙ্গাসাগর যাত্রাকে আরও সহজ ও সুগম করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি শিলান্যাস হয়েছে গঙ্গাসাগর সেতুর। আনুমানিক ১৬৫০ কোটি টাকার এই সেতু গড়ে উঠলে জেলার ছবিটাই বদলে যাবে। এতে একদিকে যেমন সময় বাঁচবে, অন্যদিকে যাত্রাপথ হবে সহজ। যা আরও দর্শনার্থী টেনে আনবে বলেই মনে করা হয়েছে। একইভাবে কলকাতার উপকণ্ঠে বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে উঠতে চলেছে দুর্গা অঙ্গন। সম্প্রতি এর শিলান্যাস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সবগুলি ডালপালা মেললে বাংলার পর্যটন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলেই আশা করছেন রাজ্যের পর্যটন কর্তারা।
রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই রয়েছে ছোট-বড় পর্যটন কেন্দ্র। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার পর্যটনে আরও জোর দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে আরও ঢেলে সাজানো হয়েছে। কলকাতার উপকণ্ঠে একাধিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। বিদেশি পর্যটকরাও বাংলায় আসছেন বেশি সংখ্যায়। রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলি ঘুরে আতিথেয়তা পেয়ে মুগ্ধ হচ্ছেন তাঁরাও। বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণে দেশের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা নিঃসন্দেহে বাংলার জন্য গর্বের বিষয়। পর্যটনকে ঘিরে রাজ্যের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৌন্দর্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার যে প্রয়াস, তা সফল হচ্ছে ধাপে ধাপে। এই সাফল্য শুধু পরিসংখ্যানের নয়, এটি বাংলার আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবিও বটে। এর ফলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান হচ্ছে, অন্যদিকে রাজ্যের কোষাগারও ভর্তি হচ্ছে। শিল্পবিমুখ বলে পরিচিত রাজ্যে যা বিকল্প এক পথের সন্ধান দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সফলভাবে একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে তার পরিচিতি ঝেড়ে ফেলেছে। এটি এখন আর উত্তর-পূর্ব বা ভুটানগামী ভ্রমণকারীদের জন্য শুধু একটি যাত্রাবিরতির স্থান নয়। আজ, এটিই গন্তব্য। ২০২৬ এবং তার পরের চ্যালেঞ্জ হবে এই “অতি-পর্যটন”কে এমনভাবে পরিচালনা করা যাতে সেই নীরবতা এবং সংস্কৃতি নষ্ট না হয়। বাংলা তার দরজা খুলে দিয়েছে। এখন, তাকে নিশ্চিত করতে হবে। শিল্পে লগ্নি টানতে বাম আমলে রাজ্যে অনুষ্ঠিত হত ডেস্টিনেশন বেঙ্গল। পালাবদলের পরে প্রতি বছর বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট করে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর সুফলও মিলতে শুরু করেছে। তবে আরও সময় লাগবে। নেতিবাচক প্রচার ও মানসিকতাকে পিছনে ফেলে বাংলার এই অগ্রগতি নিঃসন্দেহে এক বড় সাফল্য। বাংলায় কিছুই হয় না, পিছিয়ে বাংলার মতো স্লোগান কোথাও যেন বুদবুদের মতন বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই হয়তো ঘুরে দাঁড়ান যায়। ইউরোপের অনেক ছোট ছোট দেশ যা আগেই করে দেখিয়েছে, এবার তাই করে দেখাচ্ছে বাংলা।