ভোলে বাবার ভক্তদের মাস এটি। এই সময়ে নিষ্ঠাসহকারে শিবঠাকুরে পুজো করলে তিনি তুষ্ট হন। এমনিতেই শান্ত যোগীবর । তবে রুষ্ট হলে আর রক্ষে নেই। প্রলয় নাচন মনে আছে তো…..

প্রবীর মুখার্জী, নিজস্ব প্রতিনিধি : শিবঠাকুর মানেই। জল ঢালা। গঙ্গার জলই শুদ্ধ। একান্তই না পেলে সংস্কার করা পুকুরের জল ব্যবহার করা যেতে পারে। মাথায় যখন জল ঢালবেন, তখন ওই জলে একটু চিনি মিশিয়ে নিলে শিবঠাকুর প্রসন্ন হন। কাঁচা দুধে সিদ্ধি মিশিয়ে নিতে পারেন। ঘি-দই-মধুও মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। যখন জল ঢালবেন, তখন অবশ্যই ঔঁ নমঃ শিবায়ঃ মন্ত্র বলে জল ঢালতে পারেন। ভোলা মহেশ্বর প্রসন্ন হন। এরপর বেল পাতা নিবেদন করবেন। দেখে নেবেন বেলপাতা যেন তিনটি হয়। বেলপাতা না হলে ধুতরোপাতা ব্যবহার করতে পারেন। অনেকে গাঁজা পাতাও ব্যবহার করে থাকেন। তবে বেল পাতা সাধারণত সারা বছরই পাওয়া যায়। বিশেষ কোনও কারণে না পেলে, আকন্দ পাতাও ব্যবহার করা যেতে পারে। নিদেনে দূর্বাও ব্যবহার করা যেতে পারে শিবের পুজোয়। সুগন্ধী ফুলগুলির মধ্যে জুঁই-বেল-কেতকী-চাঁপা ফুল একেবারেই নয়। লাল জবাও ব্যবহার করা হয় না শিবের পুজোয়। আকন্দ ফুল খুব প্রিয়। তাই আকন্দ ফুল ব্যবহার করতে পারেন। তবে লাল আকন্দ নয়। সাদা আকন্দই শিবের পছন্দের।

এরপর আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ না করলেই নয়। সেটি হল হাত তালি দেওয়া। তিনবার হাততালি দেওয়া বাঞ্ছনীয়। প্রথমবার হাততালি দেওয়ার অর্থ তাঁর উপস্থিতিতে স্বাগত জানানো। দ্বিতীয়বার হাততালি দেওয়ার ভক্ত না চাইলেও যেন তাঁর সম্পদের প্রাচুর্য বজায় থাকে। অর্থাৎ ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ থাকে যেন তার সংসার। তৃতীয়বার হাততালি দেওয়ার অর্থ হলো মহাদেব যেন সেই ভক্তকে তাঁর পায়ে স্থান দেন। সরষের তেলের প্রদীপ বা ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করতে ভুলবেন না। শিবের মূর্তির সামনে বসে ধ্যান করতেও ভুলবেন না। এর ফলে মানসিক শান্তি বজায় থাকবে। উপবাস থেকে শিবপুজো করলে তিনি বেশি মাত্রায় প্রসন্ন হন। এইদিন আমীষ আহার তো বটেই এমনকি মদ্যপানও একেবারেই নয়। নিরামীষ আহার করুন। ফুলমূল খেতে পারেন। সিদ্ধ অন্নও চলতে পারে। এইদিন গরীব দুঃখীদের দান করলেও শিবঠাকুর তুষ্ট হন।