একসময় অনামী ‘NCPI’ আজ চর্চায়

রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা এনসিপিআইকে ঘিরে, বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের যোগদান নিয়ে জল্পনা,বাংলায় সদর দফতরের সামনে মানুষের ভিড়

রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিক্ষুব্ধ সাংসদ এই দলে যোগদান করতে চলেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনার মধ্যেই চর্চায় হাওড়ার সাঁকরাইল ব্লকের হাটগাছা এলাকায় অবস্থিত এনসিপিআই-এর কার্যালয়। ফলে কৌতূহল বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই এনসিপিআই-এর নাম রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ এই দলে যোগ দিয়েছেন।

জানা যায়, ত্রিপুরায় আত্মপ্রকাশ করা এই রাজনৈতিক দলের পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন সাঁকরাইলের হাটগাছা এলাকার বাসিন্দা শিউলি কুণ্ডু। স্থানীয়দের বক্তব্য, পেশায় আইনজীবী শিউলি কুণ্ডু দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পরিচালনা করেন এবং তাঁর স্বামী উত্তিয় কুণ্ডুও সেই কাজে সহযোগিতা করতেন।

এলাকাবাসীর দাবি, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় ঝোড়হাট গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি গ্রামসভা আসনে এনসিপিআই প্রার্থী দেওয়ার পর প্রথমবার তাঁরা এই রাজনৈতিক দলের নাম জানতে পারেন। তবে এরপর লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় দলটিকে খুব একটা সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মসূচি বা প্রচারে দেখা যায়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।

রবিবার সন্ধ্যার পর দলটিকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা ছড়িয়ে পড়তেই হাটগাছার কার্যালয়ের সামনে বহু মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। তবে অফিসে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে শিউলি কুণ্ডুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কার্যালয়ের সামনে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর আগামী কয়েকদিন কী ঘটে তার দিকে।