দিল্লির দূষণের উৎস কোথায়, ধোঁয়াশা কাটছে না!

শীত পড়তেই দিল্লির বাতাসে বাড়ছে দূষণের দাপট। দূষণের মাত্রা কতটা, তা মাপার ব্যবস্থা থাকলেও বাতাসে মিশে থাকা ক্ষতিকর অতি সূক্ষ্ম কণার উৎস ঠিক কোথায়, তা নিয়ে এখনও কাটেনি ধোঁয়াশা। উদ্বেগের বিষয়, দিল্লির শীতকালীন দূষণের উৎস চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত পূর্বাভাস মডেল এখনও ২০১৬ সালের নির্গমন সংক্রান্ত সমীক্ষার উপর নির্ভরশীল। শুধু তা-ই নয়, বাতাসে বিভিন্ন গ্যাসের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া দূষণকণার উৎসও নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির দূষণের অন্যতম প্রধান উপাদান হল পিএম ২.৫। মানুষের চুলের ব্যাসের প্রায় তিরিশ ভাগের এক ভাগ এই কণার আকার। যানবাহনের ধোঁয়া, ফসলের অবশিষ্টাংশ ও কাঠ পোড়ানোর ধোঁয়া, নির্মাণকাজ এবং রাস্তার ধুলো থেকে সরাসরি বাতাসে মেশে এই কণার একাংশ। বিজ্ঞানীরা এগুলিকে বলেন ‘প্রাথমিক কণা’।

কিন্তু দূষণের আর একটি বড় অংশ তৈরি হয় বাতাসের মধ্যেই। সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, অ্যামোনিয়া এবং বিভিন্ন উদ্বায়ী জৈব যৌগ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয়ে সূক্ষ্ম কণা তৈরি করে। এগুলিকে বলা হয় ‘সেকেন্ডারি অ্যারোসল’। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিরিয়োলজি (আইআইটিএম)-এর দিল্লির নতুন পরীক্ষাগারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর দিল্লির পিএম ২.৫-এর ২৯ থেকে ৪২ শতাংশই ছিল এই ধরনের কণা।

সমস্যা হল, এই কণাগুলি বাতাসে তৈরি হলেও যে গ্যাস থেকে সেগুলি তৈরি হচ্ছে, তার উৎস একাধিক হতে পারে। যানবাহন, বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা কৃষিক্ষেত্র থেকে নির্গত গ্যাস— সবই দূষণে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে বাতাসের নমুনা পরীক্ষা করে দূষণের পরিমাণ জানা গেলেও নির্দিষ্ট উৎসের দায় কতটা, তা নির্ধারণ করা কঠিন।

তার উপর দিল্লির দূষণ শুধু শহরের নিজস্ব নির্গমনের ফল নয়। পার্শ্ববর্তী অঞ্চল এবং দূরবর্তী এলাকা থেকেও দূষিত বাতাস এসে জমা হয় রাজধানীতে। আইআইটিএমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্ষা-পরবর্তী সময় ও শীতকালে দিল্লির নিজস্ব উৎস থেকে মোট পিএম ২.৫-এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তৈরি হয়। বাকি অংশের জন্য দায়ী পার্শ্ববর্তী এলাকা ও দূরের অঞ্চলগুলি।

দূষণের উৎস নির্ধারণে ব্যবহৃত কম্পিউটার মডেলগুলিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নির্গমনের হিসাব পুরনো হলে কিংবা বাতাসে রাসায়নিক বিক্রিয়ার কোনও প্রক্রিয়া মডেলে অন্তর্ভুক্ত না থাকলে, দূষণের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির দূষণ মোকাবিলায় শুধু দূষণের মাত্রা মাপলেই চলবে না। প্রয়োজন নির্গমনের হালনাগাদ তথ্য, উন্নত রাসায়নিক বিশ্লেষণ এবং দিল্লির বাইরের অঞ্চলগুলির দূষণ নিয়েও সমন্বিত গবেষণা। তা না হলে দূষণ কমানোর পরিকল্পনা তৈরি হলেও তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।