গেট খোলা। স্কুলও চলছে। বিল্ডিং রয়েছে, ক্লাসরুম রয়েছে, পরিকাঠামোরও অভাব নেই। তাহলে সমস্যা কোথায়? স্কুলের ভিতরে ঢুকলেই মিলছে একের পর এক না পাওয়া প্রশ্ন, বরং মিলছে আরও রহস্য। শিক্ষক আছেন, কিন্তু কেউ ছুটিতে, কেউ অন্য স্কুলে পরীক্ষার ডিউটিতে। আর যাঁদের জন্য এত আয়োজন, সেই ছাত্রীরা? স্কুলে ঢুকে তাঁদেরই দেখা মিলল না। ভাবছেন হয়তো স্কুলটা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ? একেবারেই নয়। স্কুল সচল, রেজিস্টারে নামও রয়েছে। কিন্তু একসময় যে স্কুলে ছিল ১৫০ জন ছাত্রী, আজ সেই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা হাতে গোনা। কেন এমন হাল? কোথায় হারিয়ে গেল একের পর এক ছাত্রী?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
স্কুলের নাম সেন্ট্রাল স্কুল ফর গালর্স জুনিয়র হাইস্কুল। যেটি মালদার ইংরেজবাজার ব্লকে অবস্থিত। এই স্কুলের বর্তমান অবস্থানটা কী তাহলে? চলুন এবার সেই প্রসঙ্গে সরাসরি যাওয়া যাক। এই স্কুলে ক্লাস ফাইভ টু এইট পর্যন্ত পঠনপাঠনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আদতে ব্যপারটা হল এখানে এখন ছাত্রী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র সাত জন। কিন্তু কেন ? স্থানীয় সূত্রে যেটা শোনা গেল, তা হল এই স্কুলে নাকি ঠিকমতো পঠনপাঠন হচ্ছে না। সে আবার একটা দিনের ব্যাপার নয়। দীর্ঘদিন ধরে এটা হয়ে আসছে। এই অভিযোগ শুনে স্কুলে হঠাৎ করে হাজির হন এআই অফ স্কুলস। অভিযোগ খতিয়ে দেখেন তাঁরা। রেজিস্ট্রার খাতাও খতিয়ে দেখেন তাঁরা।
তাতে যা উঠে এল, এই স্কুলে ২০১০ সালে ছাত্রী সংখ্যা ছিল ১৫০। তা কমে কমে এখন দাঁড়িয়েছে হাতে গোনা কয়েকটা জন। যেখানে ক্লাস ফাইভে রয়েছে মাত্র ১টা ছাত্রী। যে কোনওদিন আসে, আবার কোনও দিন আসে না। সেই সুযোগ কাজে লাগান শিক্ষক-শিক্ষিকারা। শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ স্কুলে আসেন, সই করেন। তারপর কিছুক্ষণ কাটিয়ে চলে যান। আর যেদিন এআই স্কুলে যান, সেদিন স্কুলে উপস্থিত ছিলেন মাত্র একজন শিক্ষক ও একজন ক্লার্ক। বাকিরা কেউ ছুটিতে, কেউ অন্য স্কুলে পরীক্ষার ডিউটিতে ছিলেন। একজনও ছাত্রীকে স্কুলে পাওয়া যায়নি। তবে স্কুলের পরিকাঠামো ঠিকই রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি জানান, সমস্ত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হয়েছে। পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। কর্তৃপক্ষই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
এদিনে স্কুলে কোনও ছাত্রী উপস্থিত না থাকায় কোনও ছাত্রীর বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি। একসময় ১৫০ জন ছাত্রীতে সরগরম ছিল যে স্কুল, আজ সেখানে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র সাত। তার মধ্যে যেদিন পরিদর্শনে গিয়ে একজন ছাত্রীরও দেখা মিলল না, তখন প্রশ্নটা আরও বড় হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠছে, দীর্ঘদিন ধরে ঠিকমতো পঠনপাঠন না হওয়ার কারণেই নাকি স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়েছে পড়ুয়ারা। যদিও অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখেছেন এআই অফ স্কুলস, সামনে এসেছে রেকর্ডও। এখন পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। একটি সচল স্কুল কীভাবে ধীরে ধীরে ছাত্রীশূন্য হওয়ার পথে পৌঁছল? আর এই পরিস্থিতির দায়ই বা কার?