রবিবারের রণক্ষেত্র: কেন্দ্রীয় বাজেটের দিন খুলছে শেয়ারবাজার!

বাজেটের দিনে কেন খুলছে বাজার ?  বিনিয়োগকারীরা কীভাবে সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলবেন ?


আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : দালাল স্ট্রিটে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। সপ্তাহান্তে শেয়ারবাজারের দরজার ঝাঁপ উঠছে। দীর্ঘ কয়েক দশকে দ্বিতীয় বার এমন ঘটনা ঘটতে চলেছে। শেষবার ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় বাজেটের দিনে শনি রবিবারের ছুটিকে উপেক্ষা করে শেয়ারবাজারের লেনদেন চালু থেকেছে। তেমনই একটা দিন হতে চলেছে ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার।  বিশেষ লাইভ ট্রেডিং সেশনটি হতে চলেছে ওইদিন, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা

শেয়ারবাজারের লেনদেনে ‘সানডে শিফ্‌ট’ খুব একটা অভিনব নয়। উদ্দেশ্য একটাই—তাৎক্ষণিক মূল্য নির্ধারণ। সাধারণত বাজেট বা বড় কোনও বৈশ্বিক ঘটনার পর সোমবার বাজার খুললেই দেখা যায় বিশাল ‘গ্যাপ আপ’ বা ‘গ্যাপ ডাউন’ হয়েছে। তখন খুচরো বিনিয়োগকারীর ঢোকা-বেরোনোর সুযোগ প্রায় থাকে না। রবিবার বাজার খুলে রাখার ফলে অর্থমন্ত্রী যখন ভাষণ দেবেন, ঠিক তখনই রিয়েল টাইমে শেয়ারবাজারের উত্থান-পতন লক্ষ্য করা যাবে।

তবে রবিবার শেয়ারবাজার খুলছে মানে বাড়তি ঝুঁকিও রয়েছে। বিনিয়োগ কতটা কঠিন হতে পারে? কোন কোন বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করবেন ? জেনে নিন।

সেটেলমেন্টের ফাঁদ—সবচেয়ে বড় সতর্কতা
রবিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ। ফলে ক্লিয়ারিং ব্যবস্থাও আলাদা। শুক্রবারের ইন্ট্রাডে বা এফঅ্যান্ডও ট্রেড থেকে হওয়া লাভ রবিবার ব্যবহার করতে পারবেন না। সেই টাকা ‘ব্লকড’ থাকবে। রবিবার কেনাকাটা করতে হলে অ্যাকাউন্টে আলাদা করে নগদ রাখতে হবে। রবিবারের লেনদেনের সেটেলমেন্ট সম্ভবত সোমবার বা মঙ্গলবারে গিয়ে মিলবে।

ভোলাটিলিটি: অ্যালগোরিদমের দোলাচল
সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা —অর্থমন্ত্রী যখন বাজেট পড়বেন, তখন শেয়ার বাজারে ব্যাপক  অস্থিরতা থাকে, নির্বাচনের ফলের দিনও ঠিক সেই স্তরের অস্থিরতা থাকে দালাল স্ট্রিটে। ‘ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স’ — অর্থমন্ত্রীর মুখে এই শব্দ উচ্চারিত হলেই সূচক ৩০০ পয়েন্ট পড়তে পারে। আবার  পরে ‘অপরিবর্তিত থাকবে’ বললে, মুহূর্তেই ৪০০ পয়েন্ট বাড়তে পারে।


 মার্কেট অর্ডার নয়, লিমিট অর্ডার

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় থাকলেও বহু খুচরো ট্রেডার ও সাব-ব্রোকার দূরে থাকতে পারেন। ফলে মিড ও স্মল ক্যাপে বিড-আস্কের অন্তর বাড়বে। ঝুঁকি এড়াতে নিফটি ৫০-র তরল শেয়ারে নজর রাখতে হবে।

বাই দ্য রিউমার, সেল দ্য নিউজ’
জানুয়ারিতে ‘জনমুখী কিন্তু বৃদ্ধিবান্ধব’ বাজেটের আশায় শেয়ারবাজার উর্ধ্বমুখী হয়েছে। ফলে বাজেট ভাল হলেও মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপ কিন্তু আসতে পারে। বড় কোনও চমক—যেমন কর্পোরেট ট্যাক্সে বড় কাটছাঁট বা জিএসটি সরলীকরণ —না হলে বিক্রি বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক।

রবিবারের ট্রেডার চেকলিস্ট
প্রি-ওপেন সকাল ৯টা। শেয়ার  বাজার ৯টা ১৫ থেকে ৩টা ৩০ পর্যন্ত চলবে। ব্রোকাররা মার্জিন কমাতে পারে। প্রতিরক্ষা, রেল, পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে নজরে রাখুন। ঋণসংবেদনশীল ব্যাঙ্কিং শেয়ারের ক্ষেত্রে সাবধানী হতে হবে। স্টপ-লস আলগা রাখতে হবে। টাইট করলে অ্যালগোর ঝাঁকুনিতে কাটা পড়বে।

রবিবারের বাজার যেন শাঁখের করাত। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা নজর রাখুন, হঠাৎ আতঙ্কে ভালো শেয়ার সস্তা হলে তবেই সেদিকে হাত বাড়াবেন। ট্রেডারের জন্য সুযোগ বড়। কিন্তু ঝুঁকিও কম নয়। তাই রবিবারকে টি-টোয়েন্টি নয়, টেস্ট ম্যাচ ভাবেই শেয়ারবাজারে ঝাঁপান। প্রথম ঘণ্টা নজর রাখুন। অ্যালগোর লড়াই শেষ হলে, অর্থমন্ত্রী যখন ব্রিফকেস গুছিয়ে নেবেন, তখনই বাজারের প্রকৃত দিকনির্দেশ পাবেন।