পরীক্ষার সকালেই স্তব্ধ কিশোরের প্রাণ!

স্কুলে পরীক্ষা দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ পৃথ্বীরাজ। হাসপাতালে নিয়ে যেতেই মৃত ঘোষণা করলেন চিকিৎসক। পৃথ্বীরাজের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : মাত্র ১৪ বছর বয়স। অষ্টম শ্রেণির ছাত্র পৃথ্বীরাজ হালদার। পরীক্ষার প্রস্তুতি সেরে সকালে যাচ্ছিল সে। প্রতিদিনের মতোই সকাল ৮টায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল পৃথ্বীরাজ। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। যা স্তব্ধ করে দিয়েছে পরিবার ও এলাকাবাসীকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোনারপুর থানার কোদালিয়া এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ৮টা ৪৮ মিনিটে একটি ফোন আসে বাড়িতে। হঠাৎ খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ছুটে যান। তড়িঘড়ি অচৈতন্য অবস্থায় পৃথ্বীরাজকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঠিক কীভাবে তার শারীরিক অবনতি হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্বাভাবিক অসুস্থতা নাকি অন্য কোনও কারণ—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

পৃথ্বীরাজ ছোটবেলা থেকেই একই স্কুলে পড়াশোনা করত। নার্সারি থেকে শুরু করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সে ছিল “The Summit School”-এর ছাত্র। স্কুলে সে নিয়মিত ও শান্ত স্বভাবের ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিল বলে জানা গিয়েছে।

মৃত ছাত্রের বাবা রাজকুমার হালদার পেশায় ব্যবসায়ী। তিন ছেলের মধ্যে পৃথ্বীরাজই ছিল সবচেয়ে ছোট। ছোট ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর স্কুলের পক্ষ থেকে কোনওরকম সহযোগিতা করা হয়নি। কী পরিস্থিতিতে পৃথ্বিরাজ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ ঠিক কী পদক্ষেপ করেছিল—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

ঘটনার পর এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে পরীক্ষার দিন সকালে ঠিক কী ঘটেছিল, কেন এত দ্রুত পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠল এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও অজানা। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের দাবি উঠতে শুরু করেছে।