রিলায়েন্স এডিএ কাণ্ডে প্রশ্নের মুখে তদন্ত! তদন্তে বিলম্বের কারণে সুপ্রিম কোর্টের তিরস্কারের মুখে ইডির তদন্তকারীরা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ভারতের কর্পোরেট ধসের ইতিহাসে এক অদ্ভুত পুনরাবৃত্তি বারবার চোখে পড়ছে। সহযোগীরা জেলে অথচ কর্তা স্রেফ আইনজীবীর ঘরে। রিলায়েন্স এডিএ গোষ্ঠী সংক্রান্ত অর্থপাচারকাণ্ডের তদন্তে চলতি সপ্তাহে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গ্রেফতার করেছে আরকমের প্রাক্তন ডিরেক্টর পুণীত গর্গ ও রিলায়্যান্স পাওয়ারের সিএফও অশোক কুমার পালকে। অথচ গোষ্ঠীর মুখ, অনিল অম্বানী, আপাতত ‘সমন’-এই সীমাবদ্ধ। যদিও তদন্তে বিলম্বের কারণে সুপ্রিম কোর্টের তিরস্কারের মুখে পড়তে হয়েছে তদন্তকারীদের। পরে তদন্তের গতি বাড়ালেও জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে দায় কি কখনও শীর্ষে পৌঁছয় না ?

ইডি সূত্রে খবর, সরকারি সংস্থাগুলির কাছে ৬৮ কোটি টাকার ভুয়ো ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, কয়েক মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট কেনার কথাও উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত অশোক পাল নাকি ভুয়ো গ্যারান্টির নকশা আঁকেন, আর পুণীত গর্গ যুক্ত ছিলেন বিদেশে সম্পত্তি কেনার লেনদেনের সঙ্গে।

কিন্তু প্রশ্ন তুলছেন আইনজীবী ও কর্পোরেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ—একজন সিএফও এবং এক ডিরেক্টর কি প্রোমোটারের অজান্তে হাজার হাজার কোটি টাকার সমান্তরাল জালিয়াতি চালাতে পারেন? কর্পোরেট কাঠামো তো নিয়ন্ত্রণের জন্যই তৈরি। চেয়ারম্যানের অগোচরে ব্যাঙ্ক নথি জাল করা এবং বিদেশে সম্পত্তি কেনা—এই তত্ত্ব অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্যতার সীমা ছুঁয়ে ফেলছে। সমালোচকদের মতে, এ যেন লাভ ব্যক্তিগত অথচ দায় কর্মীর।
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। শীর্ষ আদালত জানতে চেয়েছে, এতদিন ধরে ব্যাঙ্কগুলি জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও এবং ফরেনসিক অডিটে অর্থের গতিপথ চিহ্নিত হলেও তদন্তে এই দেরি কেন হচ্ছে? বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। তা থেকেই কার্যত স্পষ্ট যে, সিবিআই ও ইডির উপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে আদালতও।
এখানেই উঠছে একটি বিশেষ তত্ত্ব। মধ্যমস্তরের কোনও কর্মী অনিয়মে ধরা পড়লে দ্রুত গ্রেফতার করা হচ্ছে—এই ছবি নতুন নয়। কিন্তু প্রায় ৪০ হাজার কোটির কর্পোরেট পতনের অভিযোগে শীর্ষ কর্তার ক্ষেত্রে কেন কেবল জিজ্ঞাসাবাদ? ইডি যেখানে সংস্থার দুই আধিকারিক গর্গ ও পালকে গ্রেফতার করে কার্যত সংস্থার ‘হাত’ কেটেছে, তাহলে ‘মাথা’ অর্থাৎ কর্তা অনিল আম্বানিকে কেন অক্ষত রাখল, এই প্রশ্নই তুলছেন বিরোধীরা।
সুপ্রিম কোর্টের কাছে দেশ না ছাড়ার আশ্বাস দিয়েছেন অনিল আম্বানি। তবে আইনজীবীদের একাংশের মতে, শারীরিক উপস্থিতি আর ফৌজদারি দায় কিন্তু এক বিষয় নয়। যদি অর্থপাচারের টাকায় প্রোমোটার পরিবারের সম্পত্তি কেনা হয়ে থাকে— তা হলে কেবলমাত্র লেনদেনকারীদের গ্রেফতার যথেষ্ট কি? এই প্রশ্ন উঠছেই।
যদিও ইডির দাবি, তদন্ত চলছে। প্রমাণের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কিন্তু তাই যদি হয় তাহলে তদন্তে বিলম্ব কেন, প্রশ্ন তুলছে আদালতও। সবমিলিয়ে কর্মীরা জেলে অথচ কর্তা সমনে। অপরাধের ক্ষেত্রে ক্ষমতার মাপকাঠিতে কেন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে ? তদন্তের সাফল্যের পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।