নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হল উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টার

জোড়া সেমেস্টারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। তৃতীয় ও চতুর্থ সেমেস্টার মিলিয়ে উচ্চমাধ্যমিকের দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা। সোমবার ৮ সেপ্টেম্বর উচ্চমাধ্যমিক স্তরের তৃতীয় বা প্রথম পর্বের সেমেস্টার হল এমসিকিউ পদ্ধতিতে। প্রথমদিন ছিল ভাষা বিষয়ের পরীক্ষা। পরীক্ষা দিয়ে খুশি পরীক্ষার্থীরা।

নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি:- নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হল উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম পর্বের সেমেস্টার বা তৃতীয় সেমেস্টার। প্রথমদিন ছিল ভাষা বিষয়ের পরীক্ষা। এমসিকিউ পদ্ধতিতে এই পরীক্ষা হয়। পরীক্ষাশুরুর আগে এমসিকিউ নিয়ে বেশ শঙ্কায় ছিল পরীক্ষার্থীরা। এই ওএমআর শিটের জটিলতা নিয়ে চিন্তার সুর ছিল অভিভাবকদের গলায়। চিন্তার কারণ, যেহেতু ওএমআর শিটে পরীক্ষা তাই উত্তর ভুল হলে শুধরে নেওয়ার উপায় থাকবে না। তবে পরীক্ষার আগে এই ভয় থাকলেও পরীক্ষা শেষে হাসিমুখেই বেরতে দেখা গেল পরীক্ষার্থীদের।

সোমবার উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টার তথা প্রথম পর্বের পরীক্ষা শুরু হয় সকাল ১০টা থেকে। পরীক্ষা চলে বেলা ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তায় কড়া পদক্ষেপ করেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। সংসদের তরফ থেকে আগেই জানানো হয়, পরীক্ষার হলে কোন‌ও রকম ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে না পরীক্ষার্থীরা। প্রতিবছর অঙ্ক বা সমতুল্য বিষয়ের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারতেন পরীক্ষার্থীরা। তবে এবার যেহেতু এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ার জন্য সেই ক্যালকুলেটরও নিষিদ্ধ করেছে সংসদ।

পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পর পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে যান উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এবং সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিক। ওএমআর শিট শঙ্কা নিয়ে শিক্ষা সংসদ সভাপতি বলেন, “সেমেস্টার পদ্ধতিতে প্রথম এমন পরীক্ষা, তাই ছাত্রছাত্রীরা ভুল করলে উত্তরপত্র বদলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” পাশাপাশি, তিনি এও জানিয়েছেন, এদিনের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোথাও কোন গন্ডগোল বা কোন অভিযোগ মেলেনি।

চলতি বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬লক্ষ ৬০ হাজার। যার মধ্যে ছাত্র ৪৩.৯৭ শতাংশ , ছাত্রী ৫৬.০৩ শতাংশ।ছাত্রদের থেকে ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৭৯,৫৮২ বেশি। গতবছর পরীক্ষার্থীর ছিল ৫ লক্ষ ৯০হাজার। চলতি বছর ২১০৬ টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হচ্ছে । এবার ১২২ টি কেন্দ্রকে স্পর্শকাতর কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়েছে। গতবছর এই সংখ্যাটি ছিল ১৩৬ টি।এবার প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে ২০:১ অনুপাতে নূন্যতম দুই জন ইনভিজিলেটর নিরীক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন।
প্রত্যেক পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির মূলগেটে এবং ভেন্যু সুপারভাইজরের কক্ষে সিসিটিভি দিয়ে নজরদারী থাকা আবশ্যিক বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল সংসদ। হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে ঢোকার মুখে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করা হয়।