গাজা জুড়ে এখন শুধুমাত্র ধ্বংস আর ভয়াবহতা। ত্রাণশিবির খোলা মাত্রা ১১ মিনিট আর তা যেন পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- একদিকে গাজা জুড়ে ধ্বংসের ছবি আর এর সঙ্গে তীব্র খাদ্য সংকট। খিদের যন্ত্রণায় শিশুদের আর্তনাদে কান পাতা দায়। এই আবহেই যে ত্রাণশিবির রয়েছে তা খোলা থাকছে মাত্র ১১ মিনিট, সেখানে পা রাখা মানে মৃত্যুফাঁদে পা রাখার শামিল।

দিনের পর দিন খাবার না পেয়ে ত্রাণশিবির পেলে মানুষ চাইবেনই খাবার জোগাড় করতে, কিন্তু গাজায় নেই যথেষ্ট ত্রাণশিবির, ফলে শিবিরে যে মারাত্মক হুড়োহুড়ি হচ্ছে তা বলাই বাহুল্য। এর পাশাপাশি শিবির খোলা থাকছে মাত্র ১১ মিনিট, এর বেশি সময় হলেই চলবে গুলি! একদিকে তীব্র খিদে অন্যদিকে খাবারের জ্বালা সব মিলিয়ে ঘটছে পদপিষ্টের মতো ঘটনা। আবার ১১ মিনিটের সময়সীমা অতিক্রম হয়ে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে ছুটছে বুলেট। সব মিলিয়ে গাজার ত্রাণ শিবির সত্যিই হয়ে উঠেছে মৃত্যুফাঁদ। যার জেরে অনাহারে, অপুষ্টিতে শিশুমৃত্যু লাগাতার বেড়েছে চলেছে। রিপোর্ট বলছে, গত ৩ দিনে গাজায় অনাহারে মৃত্যু হয়েছে ২১ শিশুর।

গাজার পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে গাজা মৃত্যু এবং ধ্বংসের এমন এক স্তরে রয়েছে, যার তুলনা নেই।”আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া জানিয়েছেন, গাজার আল-শিফা, দেইর এল-বালাহের আল-আকসা শহিদ হাসপাতাল এবং খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে এই মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালগুলিতে প্রতি দিনই অপুষ্টি এবং অনাহারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি ক্রমশই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ইজরায়েলি সেনা গত মার্চ থেকে গাজা কার্যত দখল করে রেখেছে ফলে অন্য কোনও বেসরকারি ত্রাণ ওই এলাকায় ঢুকতে পারছে না। তবে সম্প্রতি প্রবল চাপের মুখে অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হলেও খাদ্য সংকট অব্যাহত থেকেই গেছে।

কিন্তু ত্রাণশিবিরের এই ভয়াবহ হাল কেন? ইজরায়েল-সমর্থিত ত্রাণ বিতরণকারী সংগঠন গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে লাগাতার। তাদের ত্রাণশিবিরে খাবার আনতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তবে তার পরেও সামান্য খাবারের জন্য প্রাণ হাতে নিয়ে ত্রাণশিবিরে ভিড় করছেন প্যালেস্টাইনিরা। যদিও অনেককেই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কারণ নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরা খাবার জোগাড় করতে পারছেন না আবার কেউ হয়তো খাবারই পাচ্ছেন না। ফলে মৃত্যুফাঁদেই জীবনের সন্ধান করছেন গাজাবাসী।