তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি অবশ্যম্ভাবী? ইরানে আরও যুদ্ধজাহাজ ও কয়েক হাজার সেনা পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বজিৎ নস্কর, সাংবাদিক : টানা ২১ দিন ধরে চলছে ইরান বনাম আমেরিকা- ইজরায়েলের যুদ্ধ। তবে যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সেই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল-আমেরিকা যৌথভাবে ইরানের উপর হামলা চালানোর পর এই যুদ্ধের সূত্রপাত । এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই সহ ৩০ জনের বেশি প্রশাসনিক ও সেনা আধিকারিক মারা গিয়েছেন। পাশাপাশি কয়েক হাজার ইরানি বাসিন্দারও মৃত্যু হয়েছে।
এরপরই প্রতিশোধ তুলতে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকা-ইজরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ চালাচ্ছে ইরান। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে আরও শক্তিশালী করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার মেরিন, নতুন যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যে নির্ধারিত সময়ের আগেই আমেরিকা পশ্চিম উপকূলে ‘বক্সার অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’ এবং ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটকে মোতায়েন করেছে। এই বিশাল নৌবহরটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল হয়ে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোবে। আগেই খবর পাওয়া গিয়েছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল শিল্পের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলি দখলের চেষ্টা করছে। এবার শোনা গেল, ইরানে আরও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নতুন বহরে উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বক্সারসহ ইউএসএস পোর্টল্যান্ড ও ইউএসএস কমস্টক নামের দুটি শক্তিশালী পরিবহন ডক জাহাজ রয়েছে।

রণতরীগুলি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিশেষ উভচর যান বহন করছে। যেগুলি সমুদ্র থেকে সরাসরি স্থলে বড় ধরনের আক্রমণ করতে সক্ষম। আরও জানা যাচ্ছে জাহাজগুলি থেকে উন্নত থেকে অতি উন্নততর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা যাবে। পাশাপাশি এফ-৩৫ লাইটনিং, এভি-৮ হ্যারিয়ার এবং ভাইপার ও নাইটহকের মতো বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তির হেলিকপ্টারও পরিচালনা করা যাবে। এছাড়া ক্রুজার ইউএসএস নিউ অরলিন্স এবং জাপানের ডক জাহাজ ইউএসএস রাশমোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ছয়টি উভচর জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। যার মধ্যে থাকবেন প্রায় আট হাজার সেনাসদস্য, যাদের মধ্যে চার থেকে পাঁচ হাজারই দক্ষ মেরিন সেনা।
তাহলে কি এই সুযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ভান্ডারগুলো দখল করবে?
আমেরিকা শেষ পর্যন্ত সিজফায়ারে যাবে নাকি তেল ক্ষেত্রগুলি দখল করার চক্রান্ত করছে, তা পরে জানা যাবে। তবে ইরান কিন্তু ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয় তাদের কাছে এমন কিছু অতি অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে যার উপর ভিত্তি করে তারা ছমাস ধরে একনাগাড়ে যুদ্ধ করতে পারবে।