পুরুলিয়ার কালী মন্দিরে চুরি! তালা ভেঙে সোনা-রুপোর গয়না লুঠ

পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর-২ নম্বর ব্লকের বিখ্যাত মৌতড় বড় কালী মন্দির। মৌতড় গ্রামের এই বড় কালী পুজো রাজ্যজুড়ে অত্যন্ত বিখ্যাত।এই মন্দিরে পঞ্চমুণ্ডির আসনে দেবী বিরাজ করেন, যা তন্ত্র সাধনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।কালীপুজো এবং কৌশিকী অমাবস্যায় এখানে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হন। অনেক ভক্ত মানত পূর্ণ করতে এখানে এসে দণ্ডি কাটেন। দেবীর পুজো প্রায় আড়াইশো বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। এই কালী প্রতিমা অত্যন্ত জাগ্রত বলে ভক্তদের বিশ্বাস।তবে এত প্রাচীন ও বিখ্যাত মন্দির হওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে কালীমন্দিরের দরজার তালা ভেঙে বিগ্রহের গা থেকে সোনা-রুপোর গয়না খুলে নিয়ে গেল দুষ্কৃতীরা।

গৌতম প্রামাণিক, নিজস্ব সংবাদদাতা

শুক্রবার মন্দিরে মাকে স্নান করানোর জন্য মন্দিরে আসেন সেবাইতগণ। এরপর মন্দিরে এসে তাঁরা দেখতে পান গেটের তালা কাটা অবস্থায় রয়েছে। ভিতরে ঢুকে তাঁরা দেখেন মায়ের গায়ে থাকা অলংকারগুলিও নেই। আনুমান প্রয় ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার অলংকার নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতিরা।এমনকি কান ভেঙ্গে গয়না, রুপোর জিনিসও নিয়ে যায়। এরপর খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই মন্দির চত্বরে ভিড় জমান এলাকার বাসিন্দারা। এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা।

মন্দিরে বছরভর প্রচুর ভক্তদের আনাগোনা থাকে। কখনও এই ধরনের চুরির ঘটনার অভিজ্ঞতা নেই বলে জানান সেবাইত। পুলিশ ও সেবাইতদের প্রাথমিক অনুমান,প্রাথমিক তদন্তের পর আনুমান করা গিয়েছে, গ্যাস কাটার দিয়ে মন্দিরের গেটের তালা কেটে ভিতরে ঢোকে দুষ্কৃতীরা। এরপর মায়ের অলংকার চুরি করে চম্পট দেন তারা।

পুলিশে জানানো হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান রঘুনাথপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রোহেদ শেখ,রঘুনাথপুর থানার আই সি অতনু সাঁতরা সহ পুলিশের একাধিক আধিকারিক। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কী কী জিনিসপত্র খোয়া গিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও তা কাজ করে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ,মন্দির নিয়ে যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে। কিন্তু কোনও নৈশপ্রহরী নেই। অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।