আছে স্কুল, নেই পড়ুয়া

স্কুল আছে শিক্ষক আছেন অথচ পড়ুয়া নেই। আবার কোনও স্কুলে একজন মাত্র শিক্ষকের দ্বারা চলছে পঠনপাঠন। পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলি নিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল কেন্দ্রীয় রিপোর্টে।

নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি- স্কুল আছে অথচ পড়ুয়া শূন্য। কেন্দ্রীয় রিপোর্টে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলি নিয়ে। চলতি বছর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অ্যানুয়াল ওয়ার্ক প্ল্যান ও বাজেট নিয়ে একটি নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে রাজ্য ভিত্তিক স্কুলের হালহকিকতও তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক মিলিয়ে পড়ুয়া শূন্য স্কুলের সংখ্যা ১ হাজার ৬টি। অর্থাৎ স্কুল আছে কিন্তু পড়ুয়া নেই। একনজরে দেখে নেওয়া যাক এরাজ্যে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের চিত্র। রাজ্যের মোট প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা ৬৬,৭৪৪ টট। এরমধ্যে একজন করে শিক্ষক রয়েছেন ৫১৪৯ গুলি স্কুলে। ৩০এর কম পড়ুয়া সংখ্যা ১১,৫১৫ গুলি স্কুলে। ১৫ কম এর পড়ুয়া সংখ্যা ৩৬৬৯ টি স্কুলে। পড়ুয়া শূন্য স্কুল রয়েছে ৭৪৭ টি। এবার দেখে নেওয়া যাক এরাজ্যে উচ্চ প্রাথমিক স্কুলের চিত্র। উচ্চপ্রাথমিকে মোট স্কুল ৬,৪২৬টি। যারমধ্যে একজন করে শিক্ষক রয়েছেন ৮৯১গুলি স্কুলে। ৩০-এর কম পড়ুয়া সংখ্যা ১৪৭৫ টি স্কুলে। ১৫-এর কম পড়ুয়া সংখ্যা ৭২০ টি স্কুলে। আর পড়ুয়া শূন্য স্কুল ২৫৯টি।

কেন্দ্রীয় রিপোর্টে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়। দেশের একাধিক রাজ্যের হালহকিকত তুলে ধরা হয়েছে। এবার একনজরে দেখে নেওয়া যাক বিহারের স্কুলের চিত্র। বিহারে মোট প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা ৪০,২৪১টি। যারমধ্যে একজন করে শিক্ষক রয়েছেন ১৬২১গুলি স্কুলে। ৩০-এর কম পড়ুয়া সংখ্যা ১৪৩৪টি স্কুলে। ১৫ এর কম পড়ুয়া সংখ্যা ২৬৬ টি স্কুলে। পড়ুয়া শূন্য স্কুল ১৭টি। প্রাথমিকের পর এবার বিহারের উচ্চ প্রাথমিক স্কুলের চিত্রটি একবার দেখে নেওয়া যাক। উচ্চপ্রাথমিকে মোট স্কুলের সংখ্যা ২৮৩০৮টি। যারমধ্যে একজন করে শিক্ষক রয়েছেন ৪৬ টি স্কুলে। ৩০ এর কম পড়ুয়া সংখ্যা ১৮টি স্কুলে। ১৫ এর কম পড়ুয়া সংখ্যা ৭টি স্কুলে। তবে এই রাজ্যে পড়ুয়া শূন্য স্কুল নেই।

বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তর প্রদেশের স্কুলের চিত্রটি একবার দেখে নেওয়া যাক। উত্তরপ্রদেশে প্রাথমিকে ২৫৮৬টি স্কুলেএকজন মাত্র শিক্ষক রয়েছেন। এখানে প্রাথমিকে ৩০-র কম পড়ুয়া সংখ্যা ৭০৩৭টি স্কুলে এবং ১৫-র কম পড়ুয়া সংখ্যা ৮১৬ টি স্কুলে। এবার উচ্চপ্রাথমিকে ৩১০৯টি স্কুলেএকজন মাত্র শিক্ষক রয়েছেন। এখানে প্রাথমিকে ৩০-র কম পড়ুয়া সংখ্যা ১৮৫৯টি স্কুলে এবং ১৫-র কম পড়ুয়া সংখ্যা ১৩২৯টি স্কুলে।

কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিক স্তরে স্কুলছুটের হার ছিল ৫.২০ শতাংশ। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে সেই হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে হয়েছে ১২.০১ শতাংশ। প্রশ্ন এর কারণ কি? বিশেজ্ঞদের মতে, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাশফেল নেই। কিন্তু নবম শ্রেণিতে ওঠার পরই ছাত্রছাত্রীদের পাশফেলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাই উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে স্কুল ছুটের সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে। অন্য দিকে সরকারি স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা কমার পিছনে স্কুলের পরিকাঠামো অনেকটা দায়ি বলে মত শিক্ষকমহলের একাংশের। আবার অনেকের মতে, আজ কাল অভিভাবকেরা নিজেদের সন্তানদের পঠনপাঠনের জন্য ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল বেছে নেওয়ায় সরকারি স্কুলে ক্রমশ কমছে পড়ুয়া সংখ্যা।