তারাতলা বিপর্যয় : নেই শ্রমিকদের রেজিস্টার!

রেজিস্টারই ছিল না নির্মাণস্থলে! তারাতলা-কাণ্ডে শ্রমিকদের তথ্য জোগাড়ে হিমশিম তদন্তকারীরা

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামঘর ধসের ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। কারণ, এত বড় নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের কোনও নির্দিষ্ট নথি বা রেজিস্টারই রাখা হয়নি বলে দাবি পুলিশের। ফলে ঠিক কত জন শ্রমিক ঘটনাস্থলে কাজ করছিলেন, সেই তথ্য জোগাড় করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তদন্তকারীদের।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ওই জমি লিজ নিয়েছিলেন শম্ভুনাথ বহেরা। প্রথমে ‘বহেরা ব্রাদার্স’ নামে তিন ভাইয়ের যৌথ সংস্থার অধীনে জমিটি থাকলেও পরে একক মালিকানা চলে আসে শম্ভুনাথের হাতে। ওই জমিতেই গুদাম এবং কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের কাজ চলছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিল ‘অয়ন ট্রেডার্স’ নামে একটি ঠিকাদারি সংস্থা। সেই কাজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন আসগার হোসেন। তবে এই দুর্ঘটনায় তাঁরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তারাতলা-কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন, খুনের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত আসগার হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতে ইকবালপুর এবং দক্ষিণ বন্দর থানায় দু’টি মামলা ছিল। ধৃত সৈয়দ মহম্মদ গুলজারের বিরুদ্ধেও পুরনো মামলা রয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন সংক্রান্ত নথিও খতিয়ে দেখছেন। বুধবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কলকাতা পুরসভা ওই নির্মাণ পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই ভেঙে পড়া গুদাম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চেয়ে কলকাতা পুরসভার কাছে নথি তলব করেছে লালবাজার। প্রয়োজনে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তদন্তকারীরা।

এ দিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কৃষ্ণ চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, পাপ্পুকুমার রজক, ঘি কুমার, আসগার হোসেন, সাহিল সর্দার, হাসান ইমাম, গণেশ কালান্দি এবং নবীন সিং। আহত অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১৯ জন। হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি চিকিৎসকদের থেকেও তাঁদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

উদ্ধারকারীদের একাংশের মতে, শ্রমিকদের সঠিক তথ্য না থাকায় উদ্ধারকাজ এবং মৃত-আহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ— দুই ক্ষেত্রেই বাড়ছে জটিলতা। ফলে এত বড় নির্মাণ প্রকল্পে শ্রমিকদের নথিভুক্তিকরণ কেন করা হয়নি, প্রশাসনের সামনে নতুন করে উঠছে সেই প্রশ্ন।