কুমোরটুলিতে আর হবে না শোলার কাজ? মা সাজবেন কিসে!

মা দুর্গা সহ তাঁর সন্তানদের সাজিয়ে তোলার ক্ষেত্রে শোলার সাজ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সেই শোলা, থার্মোকলের ওপরেই নাকি পুলিশের বারণ! মা সাজবেন কি দিয়ে? উঠছে প্রশ্ন।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাতাসে পুজোর গন্ধের মধ্যেই কলকাতার কুমোরটুলির শিল্পীদের ঘাড়ে চেপে বসেছে অন্য উদ্বেগ। প্রতিমাসজ্জায় থার্মোকল বা শোলা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। সেই উপকরণ ব্যবহারেই নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে ধরি মাছ না ছুঁই মার্কা এই নিষেধাজ্ঞা লিখিত নয়। মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে সাজসজ্জায় থার্মোকল ব্যবহার করা যাবে না। শেষবেলায় পুলিশের এমন নির্দেশে আতান্তরে শিল্পীরা।

গত ৬ই আগস্ট শ্যামপুকুর থানার পুলিশ কুমোরটুলি গিয়ে জানায়, প্রতিমার সাজসজ্জায় থার্মোকল কোনও ভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। আচমকা এই নির্দেশে বিপাকে শিল্পীরা। বেশির ভাগ প্রতিমার কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। থার্মোকল দিয়ে সাজানোর কাজও মাঝপথে। শিল্পীদের বক্তব্য থার্মোকল ব্যবহার না করতে বললেও বিকল্প কী হবে তা বলা হয়নি। তাই ফের থার্মোকল দিয়েই কাজ চালাচ্ছেন তারা।

২০২২ সালে থার্মোকল ও প্লাস্টিকজাত উপকরণ দিয়ে প্রতিমা অলঙ্করণে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। কারণ হিসাবে বলা হয়েছিল পরিবেশের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাবের কথা, এটি পলিস্টাইরিন দিয়ে তৈরি হওয়ায়, এগুলি জৈব-পচনশীল নয় এবং শত শত বছর ধরে ল্যান্ডফিলে টিকে থাকতে পারে। কুমারটুলির শোলা শিল্পীরা জানাচ্ছেন তাঁদের কাছে কোন লিখিত নির্দেশিকা নেই এর ফলে তাঁদের করণীয় কি তাঁরা বুঝতে পারছেন না, পুলিশ জানিয়েছে পরিবেশ বান্ধব থার্মোকল ব্যবহারের কথা কিন্তু সেটা ব্যবহারেরই বা আদর্শ মাপকাঠি কি তাও জানানো হয়নি।

পুলিশ প্রতি বছরই পুজোর আগে কুমোরটুলি পরিদর্শন করে, কিন্তু এমন ঘটনা ঘটেনি। এবারে হঠাৎ চাপ বাড়ায় কারিগরদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। অনেকেই বলছেন, একদিকে থার্মোকলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে, অন্য দিকে এদিকে ওদিকে প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার থেমে নেই। থার্মোকল প্রতিমা সাজানোর সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপকরণ। বিকল্প হিসেবে কার্ডবোর্ড বা ধাতুর মতো উপকরণ ব্যবহার করতে হলে খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। একপ্রকার চিন্তা নিয়েই কুমোরটুলিতে চলছে প্রতিমার কাজ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রতিমা গড়ে তোলা কুমোরটুলির কারিগররা এখন অন্যরকম উদ্বেগের মুখোমুখি। শিল্প টিকিয়ে রাখা, নাকি পরিবেশ রক্ষা। ভারসাম্য খোঁজার চেষ্টা চলছে।