“উৎসবের মিষ্টত্ব কেড়ে নিচ্ছে”, তোপ কংগ্রেসের

উৎসবের মিষ্টি ফেরাতে ‘চিনি লঙ্গর’, চড়া দামের প্রতিবাদে চণ্ডীগড় কংগ্রেস।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : চড়া চিনির দামে সাধারণ মানুষের উৎসবের ‘মিষ্টি’ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে বুধবার চণ্ডীগড়ে অভিনব কর্মসূচি নিল কংগ্রেস। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে চিনি বিতরণ করে ‘চিনির লঙ্গর’ আয়োজন করল চণ্ডীগড় কংগ্রেস। একইসঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হল তারা।

চণ্ডীগড় কংগ্রেস সভাপতি এইচ এস লাকি বলেন, “ওরা মানুষের উৎসবের মিষ্টিটাই কেড়ে নিয়েছে। সেই মিষ্টি ফিরিয়ে আনার ছোট্ট প্রয়াস এই কর্মসূচি।” তাঁর অভিযোগ, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও গত কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বেড়েই চলেছে। কর্মসংস্থানের সুযোগও যথেষ্ট তৈরি হয়নি বলে দাবি তাঁর।

লাকির দাবি, একসময় কেজি প্রতি ২৫-৩০ টাকায় পাওয়া যেত চিনি। এখন সেই চিনির দাম বেড়ে ৭০-৭৫ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। শুধু চিনি নয়, পেঁয়াজ, টম্যাটো, সর্ষের তেল এবং ডালের দামও সাধারণ মানুষের সংসারের বাজেটে চাপ বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। ডালের দাম কেজি প্রতি ১৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

চণ্ডীগড় কংগ্রেস জানিয়েছে, আগামী দিনে ডাল, পেঁয়াজ, টম্যাটো ও সর্ষের তেল নিয়েও একই ধরনের বিতরণ কর্মসূচি করা হবে। শহরের বিভিন্ন গ্রাম, কলোনি ও সেক্টরে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কংগ্রেসের দাবি, ‘চিনির লঙ্গর’ একদিকে যেমন দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষও। লাকির অভিযোগ, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র নিজের দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।

চিনির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এদিন রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে আম আদমি পার্টিও। একদিন আগেই অরবিন্দ কেজরিওয়াল অভিযোগ করেছিলেন, পেট্রলে ইথানল-ব্লেন্ডিং নীতির কারণে বিপুল পরিমাণ আখ ইথানল উৎপাদনে চলে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে চিনির বাজারে। তাঁর দাবি, প্রায় ২৫ লক্ষ টন আখ ইথানল উৎপাদনের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

E20 জ্বালানি নীতির প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনার কথাও জানিয়েছেন কেজরিওয়াল। গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং শিল্পমহলের একাংশ ইথানল-ব্লেন্ডিং নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

ফলে উৎসবের মরশুমে চিনির দামকে হাতিয়ার করে কংগ্রেস ও আপ—দুই বিরোধী দলই কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতি ও মূল্যবৃদ্ধিকে নিশানা করছে।