আক্রান্ত হলেও পিছু হঠেননি অভিষেক !

সোনারপুরে নিহত কর্মীর বাড়িতে যেতে গিয়ে প্রবল জনরোষের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উড়ে এল ডিম, কাদা, জুতো।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের দেখতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চারচাকার গাড়ি নয়, মূল রাস্তা থেকে নেমে দু’চাকার যানে চেপে সোনারপুরে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢোকার মুখে তাঁর গায়ে হাত তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় অভিষেকের মাথায়-ঘাড়ে-গায়ে। ভেঙে দেওয়া হয় সেই বাইকটি।

তার মধ্যে ক্রিকেট খেলার হেলমেট মাথায় দিয়ে তৃণমূল সাংসদ এগোতে থাকেন সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে। সেই সময় তাঁর গায়ে ডিম ছোড়া হয়েছে। জুতোও ছোড়া হয়েছে। ছিঁড়ে দেওয়া হয় পরনের সাদা রঙের শার্টের বোতাম। ওই অবস্থায় হেঁটে এগোতে থাকেন তৃণমূল নেতা। ওঠে ‘চোর-চোর’ স্লোগান।

বস্তুত, অভিষেক সোনারপুরে যাওয়ার আগেই কোথাও কোথাও মহিলাদের ডিম হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। কোথাও কালো পতাকা হাতে নিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিচ্ছিলেন বিজেপির লোকজন। এই বিক্ষোভের মধ্যে চারচাকা গাড়িতে না-গিয়ে মূল রাস্তা থেকে নেমে দলীয় কর্মীর বাইকে বসেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। মোট তিনটি বাইক যাচ্ছিল। মাঝখানের বাইকে পিছনের আসনে বসেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর পিছনের আসনে আরও একজন বসেছিলেন। তখনই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। বাইক ধাওয়া করে দৌড়োতে থাকেন কয়েক জন। তার পর শুরু হয় শারীরিক হেনস্থা।

তবে এসবের পরও নিহত কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন অভিষেক। তিনি জানান পুলিশ না এলে ওই জায়গা ছাড়বেন না তিনি। তারপর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রহরায় এলাকা থেকে বার হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ এবং বাহিনীর জওয়ানেরা তাঁকে পাহারা দিয়ে দলীয় কর্মীর বাড়ি থেকে গলিপথ দিয়ে গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যান। তার পরে সেখান থেকে গাড়িতে উঠে সেখান থেকে রওনা দেন অভিষেক।

সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় সরব তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘শাসকই এখন ঘাতক’, সমাজমাধ্যমে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। দু’জনেই প্রকাশ্যে এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন।