ভোটের আগেই ভোটগ্রহণ!

৮৫ ঊর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক এবং ৪০ শতাংশ বা তার বেশি শারীরিক প্রতিবন্ধকতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এই বিশেষ হোম ভোটিং ব্যবস্থা।

ছোটন সেনগুপ্ত, নিজস্ব সংবাদদাতা : ভোটের আগেই ভোটগ্রহণ। একদম ঠিকই শুনছেন। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিন থাকলেও তার আগেই বাংলার বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়ে গেল ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া। কারণ এবার আর ভোটারদের শুধু ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না বরং ভোটই পৌঁছে যাচ্ছে তাঁদের দোরগোড়ায়। বাঁকুড়া, আসানসোল-সহ বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট গ্রহণের কাজ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী. ৮৫ ঊর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক এবং ৪০ শতাংশ বা তার বেশি শারীরিক প্রতিবন্ধকতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এই বিশেষ হোম ভোটিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যাঁরা আগেই বাড়িতে বসে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের জন্যই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কেউ ঘরে বসে ভোট দিতে চাইলে সবার প্রথমে বিএলওের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ভোটার বা পরিবারের কাউকে যোগাযোগ করতে হবে। এরপর ১২ডি ফর্ম ফিলআপ করে ফেলতে হবে। তাহলেই ভোটারের তরফের কাজ শেষ। এরপর বিএলও সেই ফর্ম গিয়ে জমা দেবেন নির্দিষ্ট জায়গায়। তারপর রিটার্নিং অফিসার কবে ভোটগ্রহণ করা হবে সেটা ঠিক করবেন। সেই মতো প্রার্থীদের জানানো হবে দিন। এমনকি ভোটারদেরও বলে দেওয়া হবে। এরপর নির্দিষ্ট দিনে বাড়ি গিয়ে নেওয়া হবে ভোট।

বাঁকুড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ভোটকর্মীরা পৌঁছে যাচ্ছেন ভোটারদের বাড়িতে। শুধু তাই নয়, ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখতে প্রতিটি বাড়ির মধ্যেই অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হচ্ছে ভোটিং কেন্দ্র। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে কোনওভাবেই ভোটের নিরপেক্ষতা বা গোপনীয়তা বিঘ্নিত না হয়। এই উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন সেই সমস্ত প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষ। যাঁদের পক্ষে শারীরিক অসুবিধার কারণে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব। বাঁকুড়ায় প্রায় ১২ হাজার ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই তালিকা অনুযায়ী একে একে প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন ভোটকর্মীরা।

আসানসোলের মহিশীলা এলাকাতেও একইভাবে আবেদনকারী ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের পাশাপাশি এলাকার বুথ লেভেল অফিসাররাও উপস্থিত থাকছেন। যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে এই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট গ্রহণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট ও ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে বাংলায়। যার ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ঠা মে। কিন্তু তার আগেই এই হোম ভোটিং প্রক্রিয়া এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।