৩ টে অভিযোগ, সম্পূর্ণ মিথ্যা : রাঘব

রাঘব চাড্ডা বনাম আপের সংঘাতে চড়ছে উত্তাপ। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও ভিডিও পোস্ট করলেন রাঘব। প্রত্যেকটি অভিযোগই ভিত্তিহীন, সাফ জানালেন রাজ্যসভার আপ সাংসদ।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : আম আদমি পার্টির অন্দরেই প্রকাশ্যে বাড়ছে মতবিরোধ। রাঘব চাড্ডাকে রাজ্যসভায় ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তিনি প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন যে, প্রত্যেকবার সাধারণ মানুষের স্বার্থে আওয়াজ তোলা সত্বেও কেন তাঁকে পদ থেকে সরানো হল ?  তবে রাঘবের এই অতি সক্রিয়তাকে মোটেও ভালোভাবে নিচ্ছেন না দলীয় নেতৃত্বরা। অতিশি মারলেনার অভিযোগ, বিজেপিকে ভয় করেই তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেননা রাঘব। বিরোধীরা যখন ওয়াকআউন করছেন, তখন রাঘব চাড্ডা সংসদভবনের মধ্যে কেন বসেছিলেন ? এমন প্রশ্নও তুলছেন আপ নেতা-নেত্রীরা

এবার দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহের সুর চড়ালেন রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘যে তিনটি অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার মধ্যে একটিও সত্য নয়’’— এভাবেই দলীয় আক্রমণের জবাব দিলেন তিনি।

সম্প্রতি তাঁকে রাজ্যসভায় দলের ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে আম আদমি পার্টি। শুধু তাই নয়, দলের কোটা থেকে সংসদে বক্তব্য রাখার সুযোগও তাঁর ক্ষেত্রে সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই চাড্ডার সঙ্গে দলের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

পরপর দু’টি ভিডিও বার্তায় রাঘব নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। প্রথমটি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে, দ্বিতীয়টি সরাসরি দলকে উদ্দেশ্য করে। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ‘স্ক্রিপ্টেড ক্যাম্পেন’ চালানো হচ্ছে। ‘‘একই ভাষা, একই অভিযোগ— এটা কাকতালীয় নয়, সংগঠিত আক্রমণ,’’ দাবি রাঘব চাড্ডার।

দলের প্রথম অভিযোগ, সংসদে বিরোধীরা ওয়াকআউট করলে তিনি নাকি অনেক সময়ই আসনে বসে থাকেন এবং সেই কর্মসূচিতে সামিল হন না। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে খারিজ করে দিয়েছেন চাড্ডা। তাঁর পাল্টা চ্যালেঞ্জ, ‘‘একটা দিনের উদাহরণ দিন, যখন বিরোধীরা ওয়াকআউট করেছে আর আমি তাতে যোগ দিইনি। সংসদে সর্বত্র সিসিটিভি রয়েছে, যেকোনও একদিনের ফুটেজ বের করলেই সত্যিটা সামনে আসবে।’’

দ্বিতীয় অভিযোগ আরও গুরুতর। দলের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্ট প্রস্তাবে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেছিলেন চাড্ডা। এই অভিযোগ নিয়েও তিনি স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন। রাঘবের দাবি, ‘‘এবিষয়ে দলের কোনও নেতা তাঁকে কিছু বলেননি। রাজ্যসভায় আপের মোট ১০জন সাংসদ আছে। যেখানে ৬-৭জন সাংসদ তাতে সই করেননি। সেখানে আমার উপরে কেন অভিযোগ তোলা হচ্ছে? এই ইম্পিচমেন্ট মোশনের জন্য ১০৫জন সাংসদদের মধ্যে মোট ৫০জনের স্বাক্ষর প্রয়োজন। তাহলে এত চেঁচামিচি কেন ? ’’

তৃতীয় অভিযোগ – রাঘব চাড্ডা ভয় পেয়েছেন, সেজন্য রাজ্যসভায় ভুলভাল কথা বলছেন। এই প্রসঙ্গে রাঘব চাড্ডার দাবি, “আমি সংসদে চেঁচাতে, মাইক ভাঙতে বা গালিগালাজ করতে যাইনি। আমি জনসাধারণের কথা তুলে ধরতে গেছি। সমস্ত ধরণের ইস্যু সংসদে তুলে ধরেছি আমি। জিএসটি থেকে ইনকাম ট্যাক্স। পঞ্জাবের জল থেকে দিল্লির বায়ুদূষণ। সরকারি স্কুল থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিষেবার কথাও তুলে ধরেছি। এমনকি ভারতীয় রেলে যেসব যাত্রীরা চড়েন, তাঁদের সমস্যার কথাও পেশ রাজ্যসভায়। এমনকি মহিলাদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার কথাও তুলে ধরেছি, যা নিয়ে কেউ কথা বলেন না। বেকারত্ব থেকে মূল্যবৃদ্ধি- সমস্ত ইস্যু তুলেছি, আমার ৪বছরের রেকর্ড তুলে দেখে নিন। যেসব মানুষ আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন, সমস্ত অভিযোগের জবাব আমি দেব।”    

চাড্ডার বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে, দলের ভেতরে তাঁর অবস্থান নিয়ে চাপানউতোর দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। তবে প্রকাশ্যে এ ভাবে পাল্টা আক্রমণ, তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভিন্নমত সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা চাপে পড়েছে আপ নেতৃত্ব। একই সঙ্গে চাড্ডার এই অবস্থান ভবিষ্যতে দলীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

সব মিলিয়ে, আপের অন্দরের এই টানাপড়েন এখন প্রকাশ্যে এসে পড়ায় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এখন রাঘব চাড্ডার রাজনৈতিক জীবন কোনদিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।