তিন বছরের টাকা বকেয়া। সরকারি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ ঠিকাদারদের

ঠিকাদারদের বিক্ষোভ, অবরোধে অফিসেই ঢুকতে পারলেন না সেচ দফতরের কর্মী থেকে শুরু করে আধিকারিকদের কেউ ই। যতদিন না বকেয়া টাকা মেটানো হচ্ছে ততদিন এইভাবেই অবরোধ, বিক্ষোভ চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঠিকাদারেরা। ঘটনাটি বাঁকুড়া জেলায়।

মিলন কর্মকার, বাঁকুড়া- পুজোর মুখে বকেয়া টাকার দাবিতে দিন কয়েক আগে বাঁকুড়ার জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের ঠিকাদারেরা রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এবার সেই এক‌ই ইস্যুতে জোরদার আন্দোলনে নামলেন কংসাবতী সেচ (ক্যানাল) দফতরের ঠিকাদারেরা। সেচ দফতরের বাঁকুড়া জেলায় মুকুট মনিপুর ও কংসাবতী ৩, ৫ এবং ৮ মিলিয়ে মোট চারটি বিভাগে প্রায় শতাধিক ঠিকাদার সংস্থা কাজ করেন। তাঁদের অভিযোগ গত তিন বছর ধরে কাজ করলেও তাঁদের টাকা বকেয়া রেখে দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে বকেয়া টাকার পরিমান প্রায় সাত কোটি টাকা। এবার পুজোর আগে সেই টাকা মিটিয়ে দেওয়ার দাবি তুলে পথে নেমেছেন ওই ঠিকাদাররা। তাঁদের বক্তব্য দফতর টাকা না দেওয়ায় পুজোর মুখে তারাও কর্মিদের টাকা দিতে পারছেন না। পুজোর মুখে কর্মিদের অসন্তোষ বাড়ছে। তাই তারা পথে নেমেছেন।

এদিন সকাল থেকেই বাঁকুড়ার খাতরায় কংসাবতী সেচ প্রকল্পের দফতরের মূল দরজা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। ঠিকাদারদের বিক্ষোভের জেরে এদিন ওই দফতরের কোনো কর্মী বা আধিকারিক‌ই অফিসে ঢুকতে পারেন নি। বকেয়া টাকা না মেটানো পর্যন্ত বিক্ষোভ, অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারী ঠিকাদেরেরা। যদিও এই বিষয় নিয়ে এখনও পর্যন্ত সেচ দফতরের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয় নি। এদিকে গত বছরের আগষ্ট মাস থেকে কাজ করেও টাকা না পাওয়ায় অনশন ও ধরনা অবস্থানে বসেছেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের ঠিকাদারেরাও। ফলে জল জীবন মিশনের কাজ‌ও বন্ধ হ‌ওয়ার যোগাড়। এক্ষেত্রে বকেয়ার পরিমান প্রায় সাড়ে তিনশো কোটি টাকা বলে দাবি ঠিকাদারদের।