‘১২ বছরে তৃতীয় সফর, ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের সেতুবন্ধনে প্রবাসী ভারতীয়রাই সবচেয়ে বড় শক্তি’, মেলবোর্নে মোদী।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গত এক দশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আর সেই সেতুবন্ধনের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা প্রবাসী ভারতীয়দেরই। বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে ভারতীয় সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গত ১২ বছরে এটি তাঁর তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া সফর, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও জনসম্পর্কেরই প্রতিফলন।
প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে মোদী বলেন, ‘‘২০১৪ সালে আমি প্রথম বার অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলাম। তার আগে ২৮ বছর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এখানে আসেননি। তখন বলেছিলাম, আবার আসতে ২৮ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। গত ১২ বছরে এ নিয়ে আমার তৃতীয় সফর। এই সম্পর্ককে এত দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব আমার নয়, আপনাদের।’’

অনুষ্ঠানের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। পরে রসিকতার সুরে বলেন, ‘‘অনুষ্ঠানটি একেবারে হাউসফুল, যেন ব্লকবাস্টার ছবি। এর আগে দু’বার সিডনিতে আপনাদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। এ বার ভাবলাম, মেলবোর্নের মানুষের সঙ্গে ‘ফ্ল্যাট হোয়াইট’ কফি খেয়ে আড্ডা দেওয়া যাক।’’
প্রবাসী ভারতীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কথাও তুলে ধরেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘‘অনেকের পরিবারে একসঙ্গে দু’টি টাইম জ়োন চলে। এখানে সন্তানরা স্কুল থেকে ফিরছে, আর ভারতে দাদু-দিদা ভিডিও কলে অপেক্ষা করছেন। এখানে সপ্তাহান্ত, অথচ ভারতে কোনও বিয়ের অনুষ্ঠান লাইভে দেখা হচ্ছে।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার উন্নয়নেও ভারতীয়রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
ভারতীয়দের অবদান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোদী বলেন, ‘‘আমরা দুধে মিশে যাওয়া চিনির মতো— নিজেরা মিশে গিয়ে অন্যকে আরও মিষ্টি করে তুলি। ঘরের দুধ অস্ট্রেলিয়ার হতে পারে, কিন্তু সেই দুধে তৈরি চা ভারতীয়। ডাল-সবজি অস্ট্রেলিয়ার হলেও তার ফোড়ন ভারতীয় মশলার।’’
মেলবোর্নের মোদীর ভাষণের অনুষ্ঠানে এদিন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘লিটল ইন্ডিয়া’ বা ‘মিনি ইন্ডিয়া’-র প্রসঙ্গও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরের নানা বাজার ও এলাকায় ভারতীয় সংস্কৃতির ছাপ স্পষ্ট। একটি বাজারের ‘সেল’-এর প্রসঙ্গ টেনে রসিকতা করে বলেন, ‘‘সেলের চক্করে পড়ে মানুষ অনেক সময় না চাইলেও কেনাকাটা করে ফেলে।’’

অনুষ্ঠানে ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জাসিন্তা অ্যালানও ভারতের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ভারত শুধু বাণিজ্যিক অংশীদার নয়, এমন একটি দেশ, যার উপর আমরা আস্থা রাখি। ভিক্টোরিয়ায় ভারতীয় সম্প্রদায় শুধু স্বাগতই নয়, তারা আমাদের সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।’’

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের উদ্দীপনা ও পারস্পরিক সহযোগিতাই ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।