আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : আর জি কর কাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল। ঋতব্রত-তৃণমূলে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালান বাবা। বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে আগমন হয় ছেলের। পানিহাটি এলাকায় পুচিদা নামে পরিচিত ছিল ছেলে। বাবা বহুদিনের জনপ্রিয় নেতা। বেশ কয়েকবারের বিধায়ক।

পানিহাটি-সহ আশপাশের এলাকায় বেশ দাপট ছিল। সেইসঙ্গে ছিল হাজার হাজার অভিযোগ। সোদপুরের অমরাবতীর মাঠ থেকে শুরু করে একাধিক জমি দখলের মতো অভিযোগ জমা পড়লেও পুলিশ পদক্ষেপ করেনি। যদিও ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে নিজে আর প্রার্থী হননি। তাঁর বদলে ছেলেকে প্রার্থী করা হয় পানিহাটি থেকে। কিন্তু আর জি করের নির্যাতিতা-নিহত তরুণীর মা, বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের কাছে হেরে যান। তারপর থেকেই তাঁদের পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে পুরনো মামলাগুলির তদন্ত শুরু হয়।
এতক্ষণ যার বিবরণ দেওয়া হচ্ছিল, তিনি হলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। ঋতব্রত-তৃণমূলে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের। আরজি কর কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে তাঁর। এছাড়াও এক যুবকের জেতা লটারির টাকা হাতিয়ে নেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে। এই লটারিকাণ্ডে আবার ব্যাপক ধরপাকড়ও শুরু হয়। নির্মল ঘোষের ২ ঘনিষ্ঠ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কার্যত বেপাত্তা ছিলেন নির্মল ঘোষ। শনিবার ১১ জুলাই আচমকাই তপসিয়ায় ঋতব্রত-তৃণমূলের বৈঠকে পৌঁছে যান তিনি। ঢোকার আগে বলেন, বৈঠকে নয়, জাভেদ খানের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। বৈঠকের শেষে বলেন, বিরোধী দলনেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।
৯ নভেম্বর ২০২৪ সালে এক লরি চালক লটারি কেটেছিলেন। সেখানে ১ কোটি টাকা জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই টাকার উপর চোখ পড়ে লরি মালিকের । ওই ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয় সেইসময়ের পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষের কাছে। সেখানে সেই টাকা দিতে রাজি না হওয়ার ব্যক্তির উপর চলে অত্যাচার। পুলিশের দ্বারস্থ হলে , সেইসময় শুধুমাত্র পদক্ষেপ নেওয়া হয় লরির মালিকের বিরুদ্ধে। তবে কোনওরকম আঁচ আসে না প্রভাবশালী নির্মল ও তাঁর ছেলের উপর।
তবে ২৬-র নির্বাচনের পর ছবিটা উল্টে যায়। ভোটে হেরে অজ্ঞাতবাসে গিয়েও শেষরক্ষা হল না। পুরনো মামলায় অবশেষে পুলিশের জালে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। সোমবার ভোরে দক্ষিণেশ্বর থেকে খড়দহ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। একুশের ভোট পরবর্তী হিংসায় উসকানি ও লটারি জয়ীর কাছ থেকে কোটি টাকা ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে। ছাব্বিশের ভোটে তিনি ছিলেন পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী । হারের পর থেকে তাঁর আর খোঁজ মিলছিল না। কিন্তু ভোটের মাস দুয়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার হতে হয় তীর্থঙ্করকে।
লটারিকাণ্ড ছাড়াও ২০২১ সালে ১৮ই এপ্রিল বিজেপি নেতা জয় সাহার বাড়িতে বোমাবাজির ঘটনায় নাম জড়ায় তীর্থঙ্কর ঘোষের। প্রকাশ্যে আসে সিসিটিভি ভিডিওর ফুটেজ।
নতুন ভাবে খুলে যাওয়া লটারি মামলায় নির্মল ঘোষ দোষী হলে, তিনিও শাস্তি পাবেন বলে জানান বিজেপি নেতা অর্জুন সিং।
শেষে বলা যায়, একসময় যে পানিহাটির রাজনীতিতে নির্মল ঘোষ ও তাঁর পরিবারের দাপট ছিল, এখন সেই পরিবারই একের পর এক পুরনো অভিযোগ ও মামলার তদন্তের মুখে। ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ গ্রেপ্তার হওয়ার পর এবার নজর প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের দিকেও। তদন্তের অগ্রগতিতে নতুন করে আর কী তথ্য সামনে আসে, আর সেই তদন্তের জেরে আর কারও বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে তদন্তকারী সংস্থার।