ডানকুনিতে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের পতন

চেয়ারম্যান-সহ চার কাউন্সিলরের ইস্তফায় জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : হুগলির ডানকুনি পুরসভায় বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। চেয়ারম্যান হাসিনা শবনম, ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা-সহ চার জন কাউন্সিলরের পদত্যাগের জেরে বুধবার কার্যত ভেঙে পড়ল তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর পুরসভা ভবন থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাঁদের উদ্দেশে ‘চোর, চোর’ স্লোগান ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ডানকুনির এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক অস্থিরতাকে আরও প্রকট করল বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলের একাধিক স্তরে অসন্তোষ, নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং সাংগঠনিক টানাপড়েন সামনে এসেছে। তারই মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরসভার বোর্ড ভেঙে পড়ায় নতুন করে চাপে শাসকদল।

এর আগে গত মে মাসে বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় নির্বাচিত তৃণমূল কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর দাবি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে থেকেও বহু কাউন্সিলর দায়িত্ব পালন করছেন না, যা প্রশাসনিক কাজকর্মে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তবে তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা শুধুমাত্র পুরসভাতেই সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির বিকল্প নেতৃত্বের ঘোষণা করে। ওই গোষ্ঠীর দাবি, দলের অধিকাংশ বিধায়কের সমর্থন তাদের সঙ্গে রয়েছে।

এই টানাপড়েনের জেরেই কয়েক দিন আগে কলকাতার ই এম বাইপাসে অবস্থিত তৃণমূলের রাজ্য দফতরের বাইরে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক সিআরপিএফ ও কলকাতা পুলিশ। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি ছিল, তারা দলীয় সদর দফতরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের নাম, প্রতীক এবং তহবিলের উপর অধিকার দাবি জানিয়ে আবেদন করার পরেই এই পদক্ষেপ বলে জানা যায়।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান এবং আখরুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে বিধায়ক অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে নতুন সাইনবোর্ডও লাগানো হয়। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, ভবনটির লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের ওয়ার্কিং কমিটির নামে নতুন চুক্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের মূল নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়ায়। দলীয় নেতারা পুলিশের দ্বারস্থ হন। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ভবনের মালিকানা ও লিজ সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখার পরেই সেখানে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যকলাপের অনুমতি দেওয়া হবে। এ দিকে ডানকুনির পুরবোর্ড ভেঙে পড়ার ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় নিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।