ইডির অপব্যবহার করা হচ্ছে, অভিযোগ তৃণমূলের

তৃণমূলের দাবি, বিরোধী দলকে দুর্বল করতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করছে বিজেপি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ৪৪০.৪২ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে। তারপরই তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘বেআইনি’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, বিরোধী দলকে দুর্বল করতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করছে বিজেপি।

বুধবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তৃণমূল জানায়, দলের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ এবং অনুদানের হিসাব সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ভাবে নির্বাচন কমিশন ও আয়কর দফতরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর সেই তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও প্রকাশিত হয় এবং তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। নির্বাচনী বন্ড সংক্রান্ত তথ্যও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রয়েছে, কারণ স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেই বন্ড ইস্যু হয়েছিল এবং পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, ইডির এই পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আঘাত। দলের বক্তব্য, ‘‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করতে তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহার বিজেপির রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।’’ দলের দাবি, আইনসঙ্গত ও স্বচ্ছ আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে এই ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

অন্য দিকে, ইডি জানিয়েছে, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর আওতায় চলা তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিধাননগর সাইবার থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ, আর্থিক অনিয়ম, বেআইনি অর্থ সংগ্রহ এবং তৃণমূলের নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সন্দেহজনক তহবিল স্থানান্তরের সূত্র ধরেই তদন্ত এগোচ্ছে।

ইডির কলকাতা জ়োনাল অফিস সম্প্রতি কলকাতা ও সংলগ্ন পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালায়। তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংস্থার দাবি, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং তাদের একটি সহযোগী সংস্থার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল।

ইডির আরও দাবি, ওই সংস্থা ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৮২.৯৬ কোটি টাকা একটি নবগঠিত সহযোগী সংস্থায় স্থানান্তর করে। সেই অর্থের সঙ্গে আরও তহবিল মিলিয়ে মোট ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি এমব্রায়ের লেগ্যাসি ৬০০ বিমান এবং একটি আগুস্তা ১০৯ গ্র্যান্ড নিউ হেলিকপ্টার কেনা হয়। হেলিকপ্টার কেনার জন্য কেম্যান দ্বীপপুঞ্জভিত্তিক একটি সংস্থার কাছ থেকে ১৭ লক্ষ মার্কিন ডলারের অসুরক্ষিত ঋণ নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তদন্তকারী সংস্থার।

ইডির অভিযোগ, এই বিমান ও হেলিকপ্টার পরে তৃণমূলের কাছেই ভাড়া দেওয়া হয় এবং সেই সূত্রে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। এই আর্থিক ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও উপভোক্তা কারা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে ইডির সমস্ত অভিযোগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল।