শুভেন্দুর আপ্তসহায়কের মৃত্যুতে কী দাবি তৃণমূলের ?

আদালত-পর্যবেক্ষিত সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার আরও চড়ল রাজনৈতিক তরজা। একদিকে বিজেপি এই ঘটনাকে “পরিকল্পিত রাজনৈতিক খুন” বলে অভিযোগ তুলেছে। অন্য দিকে তৃণমূল কংগ্রেসও ঘটনার তীব্র নিন্দা করে আদালত-পর্যবেক্ষিত সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের কাছে দুষ্কৃতীদের গুলিতে আক্রান্ত হন চন্দ্রনাথ রথ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী নিজেও।

বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডলে বিবৃতি দিয়ে তৃণমূল জানায়, “মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস খুনের তীব্র নিন্দা করছি। একই সঙ্গে গত তিন দিনে ভোট-পরবর্তী হিংসায় বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের হাতে নিহত তিন তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতেও আমরা শোকপ্রকাশ করছি।” শাসকদলের দাবি, আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের রাজনৈতিক হিংসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তৃণমূল আরও জানিয়েছে, “দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে আদালত-পর্যবেক্ষিত সিবিআই তদন্ত প্রয়োজন।” রাজনৈতিক হিংসার কোনও স্থান গণতন্ত্রে নেই বলেও দাবি করেছে তারা।

অন্য দিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছে আম আদমি পার্টি (Aam Aadmi Party)। দলের জাতীয় মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা কক্কর (Priyanka Kakkar) প্রশ্ন তুলেছেন, “বাংলায় যে আড়াই লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, তারা কোথায়?” তাঁর কটাক্ষ, “যদি বাংলার সবচেয়ে বড় বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেই নিরাপত্তা দিতে না পারে সরকার, তবে সাধারণ মানুষকে কী ভাবে সুরক্ষা দেবে?” একই সঙ্গে তাঁর কটাক্ষ ভরা আবেদন, “বাংলাকে আর একটা মণিপুরে পরিণত না করবেন না।”

প্রসঙ্গত, ভোট-পরবর্তী হিংসা ঠেকাতে মঙ্গলবারই রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি মেনে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হয় কমিশনের তরফে।

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন জিতে ঐতিহাসিক ফল করেছে বিজেপি। প্রথম বার বাংলায় সরকার গঠনের পথে গেরুয়া শিবির। সেই আবহেই শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে খুনের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল বাংলায় রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে।