ত্রিপুরায় ফের আক্রান্ত তৃণমূল!

বিক্রম কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা: ত্রিপুরার আগরতলার চিত্তরঞ্জন রোডে প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তেজনা। ভাঙচুরের অভিযোগ বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের হাতে হামলার শিকার হয়েছেন আদিবাসী সমাজের নেতা খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। অমানবিক নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় আগরতলা বনমালীপুর রামঠাকুর সংঘ চৌমুহনী থেকে এক বিক্ষোভ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয় বিজেপির তরফে।

এই বিক্ষোভ র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি সদর শহর জেলা সভাপতি অসীম ভট্টাচার্য, ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি তথা বিশালগড় বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুশান্ত দেব, আগরতলা ৮ নং  টাউন বড়দোয়ালী বিধানসভা কেন্দ্রের যুব মোর্চার সভাপতি পদ্মনাভ সাহা সহ অন্যান্যরা। অভিযোগ বিক্ষোভ মিছিলটি আগরতলা রামঠাকুর সংঘ থেকে শুরু হয়ে আগরতলা চিত্তরঞ্জন রোড স্থিত ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের সামনে যেতেই তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় বিজেপি কর্মীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আগরতলা চিত্তরঞ্জন রোড এলাকা।

সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি সদর শহর জেলা সভাপতি অসীম ভট্টাচার্য এবং আগরতলা ৮ নং টাউন বড়দোয়ালী বিধানসভা কেন্দ্রের যুব মোর্চার সভাপতি পদ্মনাভ সাহা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুন্ডাদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিশ্চিত।

ত্রিপুরায় তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুরের আঁচ এসে পড়েছে বঙ্গ রাজনীতিতেও। বুধবার সকালেই ত্রিপুরার উদ্দেশে রওনা দেয় তৃণমূলের ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল। যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বিজেপিকে একহাত নিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। আগের কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের নেতা-নেত্রীদের উপর আগেও হামলা হয়েছে। অভিষেকের গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। অতীতে অভিজ্ঞতাও ভয়ঙ্কর। এখনও নানারকমভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” আবারও হামলা চালানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কুণাল ঘোষ। প্রতিনিধি দলের আরেক সদস্য সায়নী ঘোষ বললেন, “এভাবে দমিয়ে দেওয়া যাবে না। ত্রিপুরার কর্মীদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো।”

সবমিলিয়ে আগরতলার চিত্তরঞ্জন রোডের প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় বুধবার কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিক সম্মেলনে একের পর এক তোপ দাগলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কুণাল ঘোষ, সায়নী ঘোষ ছাড়াও প্রতিনিধি দলে ছিলেন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা,  সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল,  ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি শান্তনু সাহা। শান্তনুর অভিযোগ, পুলিশের সামনে আগরতলা চিত্তরঞ্জন রোডের ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অথচ নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল পুলিশ। শান্তনুর হুঁশিয়ারি, এভাবে ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসকে আটকাতে পারবে না বিজেপি।