ফিরহাদ-অরূপ-জাভেদদের বহিষ্কার

বিদ্রোহের জেরে কড়া পদক্ষেপ, ফিরহাদ-অরূপ-জাভেদ-সহ ৮ নেতাকে বহিষ্কার তৃণমূলের

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : দলের অন্দরে বিদ্রোহের আবহে কড়া পদক্ষেপ করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, জাভেদ আহমেদ খান-সহ আট জন বর্ষীয়ান নেতাকে বহিষ্কার করল কালীঘাট শিবির। বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সবিনা ইয়াসমিন, অরূপ বিশ্বাস, স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং জাভেদ আহমেদ খান।

দলীয় সূত্রে খবর, এ দিন সকালেই ওই নেতাদের কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তাতে অভিযোগ করা হয়, তাঁরা পরিকল্পিতভাবে দলবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েছেন এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন। নোটিস পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

তৃণমূলের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই। সোমবার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী শিবির নিউ টাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করে। সেখানে তাঁরা সর্বসম্মতিক্রমে নতুন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস কমিটি এবং ৩০ সদস্যের একটি জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের ঘোষণা করেন।

সেই বৈঠকেই হাওড়া কেন্দ্রের বিধায়ক অরূপ রায়কে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ এবং সবিনা ইয়াসমিনকে সহ-সভাপতি করা হয়। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, দলীয় সংবিধান মেনেই এই নতুন সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁকে দলের ‘মেন্টর’ বা পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় দেখতে চাওয়ার কথাও জানিয়েছে ঋতব্রত শিবির। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, ‘‘আমরা বারবার বলেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের নেত্রী। আমরা চাই, তিনি দলের মেন্টরের ভূমিকা গ্রহণ করুন এবং আমাদের পথ দেখান।’’

অন্যদিকে, কালীঘাট শিবির বিদ্রোহীদের গৃহীত সমস্ত সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণের একমাত্র অধিকার রয়েছে দলের অনুমোদিত নেতৃত্বের। ফলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর গঠিত কমিটির কোনও সাংগঠনিক বা আইনি বৈধতা নেই।

রাজনৈতিক মহলের মতে, একের পর এক বহিষ্কার, পাল্টা কমিটি গঠন এবং ‘আসল’ তৃণমূল নিয়ে টানাপড়েন স্পষ্ট করে দিচ্ছে, রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলের অন্দরে তৈরি হওয়া সঙ্কট আরও গভীর হচ্ছে। আগামী দিনে এই সংঘাত কোন দিকে গড়ায়, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।