বিরোধী দলনেতার দফতর কই? : তৃণমূল

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার জন্য নির্ধারিত ঘরও এখনও বরাদ্দ করা হয়নি বলে দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি এবং নির্দিষ্ট দফতর বরাদ্দ না-দেওয়ার অভিযোগ তুলে বুধবার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা চত্বরে তৃণমূল বিধায়কদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, স্পিকার শুধু বিরোধী দলনেতাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতেই দেরি করছেন না, তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও দেখা করতে চাইছেন না।

গত ৯ মে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়। কিন্তু তার পরেও এখনও পর্যন্ত সেই স্বীকৃতি আনুষ্ঠানিক ভাবে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তৃণমূলের। একই সঙ্গে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার জন্য নির্ধারিত ঘরও এখনও বরাদ্দ করা হয়নি বলে দাবি দলের।

বুধবার বিধানসভার বাইরে তৃণমূলের বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক বিধায়ক। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “স্পিকার এখনও বিরোধী দলনেতাকে সরকারি স্বীকৃতি দিচ্ছেন না। স্পিকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর ঘর তৈরি হয়ে গিয়েছে, কিন্তু বিরোধী দলনেতার ঘর এখনও প্রস্তুত হয়নি।” তাঁর অভিযোগ, ইচ্ছাকৃত ভাবেই বিরোধী দলের সাংবিধানিক মর্যাদাকে খাটো করার চেষ্টা চলছে।

এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের তরফে সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টও করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, অতীতে কখনও বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতির জন্য ‘রেজোলিউশন বুক’ বা ‘রেজোলিউশনের কপি’ চাওয়া হয়নি। দলের বক্তব্য, দীর্ঘ দিনের রীতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক বিধায়কের সমর্থনই যথেষ্ট ছিল। সেই নিয়ম মেনেই প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত বিরোধী দলনেতার জন্য নির্ধারিত দফতর বরাদ্দ করা হয়নি বলে অভিযোগ।

তৃণমূলের মতে, এই আচরণ গণতান্ত্রিক প্রথার পরিপন্থী এবং বিরোধী দলের মর্যাদাকে অস্বীকার করার সামিল। যদিও স্পিকার রথীন্দ্র বোস এ বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।

এ দিকে, বিধানসভায় বিরোধী শিবিরকে সংগঠিত করতে তৃণমূল নতুন দায়িত্বও ঘোষণা করেছে। অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপ-বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে। ফিরহাদ হাকিমকে করা হয়েছে মুখ্য সচেতক।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়ী হয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে। পরে ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনে জয় পেয়ে তাদের আসনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০৮। অন্য দিকে, তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। সেই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি নিয়ে এই টানাপড়েন রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।