কালীঘাটে দলের ইস্তেহার প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্তেহারের নাম – ‘বাংলার জন্য দিদির দশ প্রতিজ্ঞা’।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর এ বার নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার কালীঘাটে দলের ইস্তেহার প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্তেহারের নাম দেওয়া হয়েছে— ‘বাংলার জন্য দিদির দশ প্রতিজ্ঞা’।

ইস্তেহার প্রকাশের মঞ্চ থেকেও বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা। নেত্রীর দাবি, তৃণমূল যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়ন করে দেখায়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বাংলার উন্নয়নে আর বিশেষ কিছু বাকি নেই। আগামী দু’-এক বছরের মধ্যে প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কাঁচা বাড়ি পাকা করা হবে। যাঁদের বিধবা ও বার্ধক্য ভাতা বাকি রয়েছে, তা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে।”

সামাজিক প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে অনুদানের পরিমাণ ইতিমধ্যেই বাড়ানো হয়েছে। বিরোধীদের কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “যাঁরা এখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়ার কথা বলছেন, তাঁরাই আবার বলছেন ভোটে জিতলে বন্ধ করে দেবেন।” পাশাপাশি যুবসাথী প্রকল্পে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের জন্য মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ২ কোটি যুবক-যুবতীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের এ বারের ইস্তেহারে নতুন করে জোর দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবায়। ‘দুয়ারে সরকার’-এর আদলে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবির চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তৃণমূল। প্রতিটি ব্লক ও শহরে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক হাজার সরকারি স্কুলের আধুনিকীকরণ, ই-লার্নিং চালু এবং শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
প্রবীণদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে রাজ্যে আরও সাত থেকে আটটি নতুন জেলা এবং একাধিক নতুন পুরসভা গঠনের কথাও জানানো হয়েছে, যাতে প্রশাসনিক পরিষেবা মানুষের আরও কাছে পৌঁছে যায়।

তৃণমূলের ইস্তেহার এ দিন ছ’টি ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১৫ বছরের উন্নয়নের রূপরেখাও এতে তুলে ধরা হয়েছে। ‘দিদির দশ প্রতিজ্ঞা’-র মধ্যে রয়েছে— লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সম্প্রসারণ, যুবসাথী, কৃষিক্ষেত্রে বড় বাজেট, সকলের জন্য পাকা বাড়ি, ঘরে ঘরে পানীয় জল, সর্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষার আধুনিকীকরণ, বাণিজ্যিক উন্নয়ন, প্রবীণদের সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক সম্প্রসারণ।
অন্যদিকে, কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, “বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের নানা চক্রান্ত আমরা আগেও দেখেছি। এ বার তা সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে।” তাঁর দাবি, বাংলাকে ভাগ করার চেষ্টাও চলছে। পাশাপাশি ডিলিমিটেশন ও এনআরসি ইস্যুতেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।
ভোটের মুখে এই ইস্তেহার যে তৃণমূলের প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে চলেছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।