সই জাল কাণ্ডে সিআইডির প্রশ্নের মুখে অভিষেক, ফের তলব রবিবার।

মাম্পি রায়,সাংবাদিক : তিন বার হাজিরা এড়ানোর পর অবশেষে বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের নির্দেশে সই জালিয়াতি মামলায় সিআইডির সামনে হাজির হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ভবানীভবনে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন তিনি। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, রেজোলিউশন কপি ও বিধায়কদের সই সংক্রান্ত অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তরে অভিষেকের একটাই জবাব ছিল— ‘‘জানি না’’। এমনকি জেরার এক পর্যায়ে তিনি মেজাজও হারান বলে দাবি তদন্তকারী মহলের।
সকালে ভবানীভবনে পৌঁছনোর পর প্রথমে ছয়-সাত জন সিআইডি আধিকারিক অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তদন্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রায় ১০ জন আধিকারিক একসঙ্গে প্রশ্ন করেন। উপস্থিত ছিলেন সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকারও। সূত্রের খবর, বৈঠকে না থাকা কয়েক জন বিধায়কের সই কী ভাবে প্রস্তাবপত্রে এল, সেই সই কারা করলেন, রেজোলিউশন কপির মূল নথি কোথায় রয়েছে— এমন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তৃণমূল নেতাকে।
তদন্তকারী মহলের দাবি, অধিকাংশ প্রশ্নেরই নির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি অভিষেক। বরং বার বার ‘জানি না’ বলেই দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। সেই কারণেই জিজ্ঞাসাবাদে সন্তুষ্ট নন তদন্তকারীরা। রবিবার ফের তাঁকে ভবানীভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেজোলিউশন সংক্রান্ত একাধিক নথি সঙ্গে নিয়ে আসতেও বলা হয়েছে।
প্রায় সাড়ে এগারোটা নাগাদ ভবানীভবন থেকে বেরিয়ে সোজা কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান অভিষেক। সেখানে দলের কয়েক জন বর্ষীয়ান নেতাকে নিয়ে বৈঠক হয়। রাত প্রায় বারোটা দশ মিনিট নাগাদ তিনি কালীঘাট থেকে বেরিয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তবে সাংবাদিকদের এড়াতে ছাতা দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন। জিজ্ঞাসাবাদ বা বৈঠক নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।
প্রসঙ্গত, ভোট-পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়। পরে ১৯ মে ফের একটি বৈঠকের পর বিধানসভায় ৭০ জন বিধায়কের সমর্থন-সহ একটি প্রস্তাবপত্র জমা দেওয়া হয়। কিন্তু বিধায়কদের শপথের সময় করা সইয়ের সঙ্গে ওই প্রস্তাবপত্রের কয়েকটি সই না মেলায় সন্দেহের উদ্রেক হয় বিধানসভার সচিবালয়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হয় এফআইআর। তদন্তভার পায় সিআইডি। ইতিমধ্যেই একাধিক বিধায়ককে জেরা করা হয়েছে। কয়েক জন ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক সরাসরি অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে তাঁর নাম।