মাত্র ৫ টাকায় হাইড্রোজেন ট্রেন চড়ার সুবিধা।
আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ভারতের রেল পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির এই ট্রেনটি নিয়ে মানুষের মধ্যে যেমন উৎসাহ রয়েছে, তেমনই এর প্রযুক্তি ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে রয়েছে অনেক কৌতুহল।

১. দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন ও রুট
ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটি মূলত হরিয়ানার জিন্দ-সোনপাত রুটে পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প হিসেবে পরিবেশদূষণ কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
২. ৫ টাকার টিকিট ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা
সাশ্রয়ী ভাড়া: এই ট্রেনের টিকিটের মূল্য অত্যন্ত কম, মাত্র ৫ টাকা। সাধারণ মানুষের কাছে প্রযুক্তির সুফল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিলাসী যাত্রা: হাইড্রোজেন ট্রেনটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন। যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং আধুনিক ইন্টেরিয়র একে একটি বিলাসী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
৩. গতিসীমা (Speed)
হাইড্রোজেন ট্রেনটি উচ্চগতির জন্য নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দিয়ে তৈরি। এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে। তবে নিরাপত্তা ও ট্র্যাকে ট্রায়াল চলাকালীন এটি বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত গতিসীমা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

৪. গ্রিন ইঞ্জিনের বিজ্ঞান (Science behind Green Engine)
হাইড্রোজেন ট্রেন কীভাবে কাজ করে, তা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বেশ আকর্ষণীয়:
জ্বালানি কোষ (Fuel Cell Technology): এই ট্রেনে প্রথাগত ডিজেল ইঞ্জিনের বদলে ব্যবহার করা হয় ‘হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল’।
বিদ্যুৎ উৎপাদন: এই সেলের ভেতরে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা দিয়ে ট্রেনের মোটর চলে।

পরিবেশবান্ধব: এই প্রক্রিয়ার একমাত্র উপজাত বা বাই-প্রোডাক্ট হলো জলীয় বাষ্প বা জল। এতে কোনও ক্ষতিকারক কার্বন নিঃসরণ হয় না, যা একে একটি ‘গ্রিন ইঞ্জিন’ বা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির তকমা দিয়েছে।
শব্দহীন যাত্রা: এই ইঞ্জিন ডিজেল ইঞ্জিনের মতো অতটা শব্দ করে না, ফলে শব্দদূষণও উল্লেখযোগ্য হারে কমে।
ভারতের এই হাইড্রোজেন ট্রেনটি ভবিষ্যতে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ কার্বন-মুক্ত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।