টেলিগ্রাম বন্ধে কেন্দ্রকে নিশানা কেজরিওয়ালের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : নিট-ইউজির (NEET-UG) পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে ভারতে সাময়িকভাবে টেলিগ্রাম পরিষেবা সীমিত করার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করলেন আম আদমি পার্টির (AAP) আহ্বায়ক তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রের কোনও প্রকৃত সদিচ্ছা নেই। বরং বাস্তব সমস্যার সমাধান না করে ‘অদ্ভুত’ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ করা এক পোস্টে কেজরিওয়াল লেখেন, প্রশ্নপত্র সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিবহণ করা হোক বা টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হোক— কোনও পদক্ষেপই প্রশ্নফাঁস রুখতে সক্ষম নয়। তাঁর দাবি, “প্রশ্নফাঁস একটি হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা। এই চক্রের অর্থ উপরের স্তর পর্যন্ত পৌঁছায়। প্রশ্নফাঁস বন্ধ হয়ে গেলে সেই অর্থ কোথা থেকে আসবে?” যদিও তাঁর এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ তিনি প্রকাশ করেননি।
প্রসঙ্গত, জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (NTA) ঘোষণা করেছে যে নিট-ইউজির পুনরায় পরীক্ষা এবং তার পরবর্তী সময়কে কেন্দ্র করে ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের পরিষেবা সীমিত করা হয়েছে। এনটিএ-র দাবি, অতীতে পরীক্ষার পর ভুয়ো ‘প্রশ্নফাঁস’-এর প্রমাণ তৈরি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে টেলিগ্রামের কিছু বৈশিষ্ট্য অপব্যবহার করা হয়েছে। সেই কারণেই তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৯এ ধারার আওতায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক টেলিগ্রামকে ভারতে ইতিমধ্যে পোস্ট করা বার্তা সম্পাদনার সুবিধাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এনটিএ-র মতে, পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত চক্রগুলি এই ফিচার ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছিল।
এদিকে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন টেলিগ্রামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাভেল দুরভও। তাঁর বক্তব্য, কয়েক জন ব্যবহারকারীর অপব্যবহারের জন্য ১৫ কোটিরও বেশি ভারতীয় ব্যবহারকারীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। দুরভের দাবি, টেলিগ্রাম বন্ধ করলেও তথ্য ফাঁসের প্রবণতা বন্ধ হয়নি, বরং তা অন্য অ্যাপে ছড়িয়ে পড়েছে।
এরই মধ্যে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে পরিষেবা বন্ধ রাখার কেন্দ্রের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তারা মামলা করেছে। ফলে নিট পুনঃপরীক্ষা ঘিরে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ এবং তার আইনি বৈধতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।