উন্নয়নের বার্তা দিতে মধুসূদনপুর অঞ্চলে পায়ে হেঁটে জনসংযোগ করলেন মগরাহাট পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শর্মিষ্ঠা পুরকাইত।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : মগরাহাট পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে ক্রমশ জোরদার হচ্ছে নির্বাচনী প্রচার। রবিবার সকাল থেকেই ‘রবিবাসরীয়’ প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শর্মিষ্ঠা পুরকাইত। কেন্দ্রের অন্তর্গত মধুসূদনপুর অঞ্চলে পায়ে হেঁটে জনসংযোগ করেন তিনি। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই প্রচার কর্মসূচি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
রাজ্যের যে কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস নতুন মুখের উপর ভরসা রেখেছে, তার মধ্যে অন্যতম মগরাহাট পূর্ব। এই কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে শর্মিষ্ঠা পুরকাইতকে বেছে নেওয়া দলীয় কৌশলেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বর্তমানে মগরাহাট পূর্বের নৈনান গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। গ্রামীণ স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকার কারণে দল তাঁর উপর আস্থা রেখেছে।
রবিবারের এই প্রচারে শর্মিষ্ঠা পুরকাইতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকের ব্লক সভাপতি থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা। পাশাপাশি মধুসূদনপুর অঞ্চলের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরাও বড় সংখ্যায় অংশ নেন এই পদযাত্রায়। সকাল থেকেই এলাকাজুড়ে ছিল উৎসাহের পরিবেশ। সাধারণ মানুষও রাস্তায় বেরিয়ে এসে প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরেন।
এই প্রচারে মূল হাতিয়ার হিসেবে উঠে এসেছে উন্নয়নের ইস্যু। শর্মিষ্ঠা পুরকাইত বারবারই উল্লেখ করেছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। তিনি বলেন, “মা-মাটি-মানুষের সরকারের আমলে গ্রামে গ্রামে রাস্তা হয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে গিয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে।” তাঁর কথায়, উন্নয়নের এই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় এখনও কিছু উন্নয়নের কাজ বাকি রয়েছে। বিশেষ করে রাস্তাঘাট আরও চওড়া করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই অনেক উন্নয়ন হয়েছে বলেও দাবি করেন। তবে ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রগুলিকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তাঁর মতে, একটি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পরিকাঠামো—এই তিনটি ক্ষেত্রের উপর জোর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
শুধু উন্নয়নই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকেও প্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন শর্মিষ্ঠা পুরকাইত। যুব সমাজের জন্য ‘যুব সাথী’, সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ‘খাদ্য সাথী’—এই ধরনের প্রকল্পগুলির কথা তিনি প্রচারের সময় তুলে ধরছেন। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে সমাজের সবস্তরের মানুষ উপকৃত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

নির্বাচনী লড়াই নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী শর্মিষ্ঠা পুরকাইত। তিনি জানান, মানুষের সমর্থন তাঁর পক্ষে রয়েছে এবং তিনি জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ আশাবাদী। তাঁর কথায়, “মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবেন এবং আমরা নিশ্চিতভাবে জয়ী হব।” এই আত্মবিশ্বাস তাঁর প্রচার কর্মসূচিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে।
এদিকে, দলীয় নেতৃত্বের তরফেও এই কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান বাড়ানোর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে ৪০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দল। সেই লক্ষ্য পূরণে ইতিমধ্যেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা ময়দানে নেমে পড়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মুখ হিসেবে শর্মিষ্ঠা পুরকাইতের প্রার্থী হওয়া একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনই এটি একটি সুযোগও। নতুন নেতৃত্বকে সামনে এনে তৃণমূল কংগ্রেস একদিকে যেমন সংগঠনের ভিত মজবুত করতে চাইছে, তেমনই ভোটারদের কাছেও একটি নতুন বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে। তাঁর গ্রামীণ স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সংযোগ এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, মগরাহাট পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে এখন জমজমাট নির্বাচনী আবহ। পায়ে হেঁটে জনসংযোগ, উন্নয়নের বার্তা এবং দলীয় ঐক্য—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে প্রচারে ঝাঁপিয়েছেন শর্মিষ্ঠা পুরকাইত। আগামী দিনে এই প্রচার কতটা কার্যকর হয় এবং ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন কতটা পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত তাঁর আত্মবিশ্বাসী সুর এবং সক্রিয় প্রচার এই কেন্দ্রের নির্বাচনী লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে।