স্বামী বনাম স্বামীর লড়াই। বেধড়ক মারধরে রক্তাক্ত বোর্ড মিটিং।
বিশ্বজিৎ মণ্ডল, নিজস্ব সংবাদদাতা : আবাসের ঘরের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে চুলোচুলি ঘাসফুলে। পঞ্চায়েতের বোর্ড মিটিংয়ে তুলকালাম। ঘর তৈরির টাকার বখরা নিয়ে তৃণমূল প্রধানের স্বামী বনাম উপপ্রধানের স্বামী। বেধড়ক মারধরে জখম দলেরই তিন কর্মী।

আবাসের টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল আগেই। পঞ্চায়েত অফিসে বৈঠক ডাকেন উপপ্রধানের স্বামী। হাজির হন পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী ও অন্য সদস্যরাও। সেখানেই বখরা আদায়ের জন্য তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। রক্তাক্ত পরিস্থিতি হয় হয় তৃণমূলের বোর্ড মিটিংয়ে। মালদার কালিয়াচক ২ ব্লকের অন্তর্গত মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের রথবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনা। হামলার অভিযোগ উঠে পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীর বিরুদ্ধে। সেদিন ঠিক কী হয়েছিল, রথবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান সবিতা সাহা চৌধুরীর স্বামী গোপাল চৌধুরী বোর্ড মিটিং ডেকেছিলেন পঞ্চায়েত দফতরে। অভিযোগ, সেখানে আবাসের টাকা এবং অনাস্থা প্রসঙ্গ ঘিরে মেজাজ হারান তৃণমূল পরিচালিত রথবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শামমসুন নেহারের স্বামী নাসির আহমেদ সাগর। সেইসময়ই কয়েকজনকে মারতে যান নাসির আহমেদ। সেখান থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে একটি আম বাগানে আশ্রয় নেন তাঁরা। অভিযোগ, সেখানে পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী দলবল নিয়ে তাঁদের মারধর করেন।

আর এই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শামসুন নেহার। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, তাঁর স্বামীকেই নাকি চেয়ার এবং লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর স্বামীও চিকিৎসাধীন। তাঁর আরও অভিযোগ, পঞ্চায়েত দফতরে গন্ডগোলের সময় দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যর স্বামী পালিয়ে আম বাগানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তখন গ্রামবাসীরা চোর ভেবে তাঁদের মারধর করেছে। এদিকে খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
আর এই নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে ঘাসফুল। ভোট যত আসবে তৃণমূলের মধ্যে লড়াই তত বাড়বে দাবি বিজেপির। এবার দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের সহ সভাপতি শুভময় বসু। তাঁর বক্তব্য, দলের অন্তর্দ্বন্দ্বে গ্রাম পঞ্চায়েতে সামান্য ঝামেলা হয়েছে। এটা নিজেদের ব্যাপার। বড় কোনও ঘটনা নয়। দলীয় তদন্তের পর ঝামেলা মিটিয়ে নেওয়া হবে।
সামনেই বিধানসভা ভোট। আর তার আগেই মালদায় শাসক শিবিরের অন্দরে গণ্ডোগোলের ছবি। ভোটের আগে নিজেদের ঘর বাঁচাতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির।