১০ লক্ষ চাকরি ও প্রশাসনিক বিপ্লবের লক্ষ্যে মমতার মেগা ইস্তেহার।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার মানুষের জন্য একগুচ্ছ যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দলের হাইভোল্টেজ নির্বাচনী ইস্তেহার ‘প্রতিজ্ঞা’ প্রকাশ করে তাঁরা স্পষ্ট করে দিলেন যে, আগামী দিনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানই হতে চলেছে ঘাসফুল শিবিরের উন্নয়নের মূল স্তম্ভ।
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ থেকে শুরু করে বেকারদের মুখে হাসি ফোটানো— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ইস্তেহারে রয়েছে ১০টি বড় ঘোষণা।
এক নজরে দেখে নিন ইস্তেহারের সেই বিশেষ দিকগুলো:
১. ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান: বেকারদের জন্য বড় উপহার
ইস্তেহারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো কর্মসংস্থান। রাজ্যের যুবশক্তিকে স্বাবলম্বী করতে আগামী কয়েক বছরে ১০ লক্ষ নতুন চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পায়ন এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে।
২. ৭টি নতুন জেলার ঘোষণা: প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও দ্রুত পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে রাজ্যে আরও ৭টি নতুন জেলা গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। জেলাগুলো হল:
কান্দি
বহরমপুর
বিষ্ণুপুর
সুন্দরবন
রানাঘাট
ইছামতি
বসিরহাট

৩. ‘দুয়ারে চিকিৎসা’: দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবা
’দুয়ারে সরকার’-এর আকাশছোঁয়া সাফল্যের পর এবার তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক ‘দুয়ারে চিকিৎসা’। এখন থেকে সাধারণ মানুষকে আর হাসপাতালে ছুটতে হবে না, বরং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবেন। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মজবুত করতে যোগ করা হচ্ছে ২৫০-৩০০টি নতুন অ্যাম্বুল্যান্স।
৪. শিক্ষার আধুনিকীকরণ ও ই-লার্নিং
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটাতে কয়েক হাজার সরকারি স্কুলকে ই-লার্নিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। প্রতিটি পড়ুয়া যাতে বিশ্বমানের শিক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করতে স্কুলগুলোতে আধুনিক ল্যাব এবং ডিজিটাল ক্লাসরুম তৈরি করা হবে।
৫. বেকার ভাতা ও মাথা গোঁজার ঠাঁই
আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নির্দিষ্ট বেকার ভাতার সংস্থান রাখা হয়েছে ইস্তেহারে। এছাড়া, প্রতিটি সাধারণ পরিবারের জন্য পানীয় জল ও নিশ্চিত আবাসন বা ‘মাথা গোঁজার ঠাঁই’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা একঝলকে: – ক্ষেত্র মূল লক্ষ্য
প্রশাসন ২৫০-৩০০টি নতুন পুরসভা গঠন করে পুর-পরিষেবাকে আরও উন্নত করা।
অবকাঠামো প্রতিটি ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া।
স্বাস্থ্য গ্রামীণ ও শহরতলির স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর আমূল সংস্কার।
প্রযুক্তি ‘বাংলার সবার শিক্ষার অধিকার’ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত বিপ্লব ঘটানো।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য:
“আমাদের লক্ষ্য বাংলার প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। প্রশাসনিক ভৌগোলিক পুনর্গঠন এবং ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা এক নতুন বাংলা গড়ে তুলব, যেখানে কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য পরিষেবা হবে মানুষের মৌলিক অধিকার।”
তৃণমূলের এই ‘প্রতিজ্ঞা’ পত্র কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্তেহার নয়, বরং আগামী পাঁচ বছরের জন্য বাংলার উন্নয়নের এক ব্লু-প্রিন্ট। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের এই ত্র্যহস্পর্শে বিরোধীদের কতটা চাপে ফেলা যায়, এখন সেটাই দেখার।