প্রকাশ্য মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে দলের কর্মীদের দিব্যি দিলেন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী! কিন্তু কেন?
ছোটন সেনগুপ্ত, নিজস্ব সংবাদদাতা: নিজের দলের নেতাদের ওপর বিশ্বাস নেই। তাই গোষ্ঠীকোন্দল আটকাতে অভিনব পন্থা নিলেন তৃণমূল জেলা সভাপতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নামে প্রকাশ্য মঞ্চে দিব্যি দিতে হল তৃণমূল জেলা সভাপতিকে। মঞ্চে বসে থাকা প্রবীণ ও প্রাজ্ঞ নেতাদের নিজেদের কোন্দল আটকাতে শেষ দাওয়াই হল কিনা মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে দিব্যি খাওয়ানো। কুলটির বিজয়া সম্মিলনীতে এমনই দৃশ্য দেখা গেল। যা দেখে হাসির রোল উঠেছে বিরোধীদের মধ্যে।

কুলটির নিয়ামতপুরে তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীতে প্রকাশ্যে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা পান্ডেবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে বলতে হল, “সবাইকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিব্যি দিয়ে চললাম। যদি এই দলকে ভালোবাসেন, যদি মনে করেন এই দলের জন্য আপনাদের সম্মান বেড়েছে, তাহলে এই পাঁচ-ছয় মাস জি-জান দিয়ে লড়াই করুন। যেখানে যা অসুবিধা হবে, জেলা তৃণমূল কংগ্রেস আপনাদের সঙ্গে আছে”। তিনি আরও বলেন- “আমি এখানে গল্প করতে আসিনা। তোলা তুলতেও আসিনা। যারা দলের সঙ্গে থাকবেন না, সব চাবি মেরে নেবো কিন্তু। দলের কাজ করবেন না আর ফুর্তি মারবেন এটা সম্ভব নয়। সবাইকে দল করতে হবে, দলের জন্য সময় দিতে হবে। “।

নরেন্দ্রর এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন বিরোধীদের। বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির কটাক্ষ, “নিজের দলের নেতাদের উপর এত অবিশ্বাস? মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে দিব্যি দিতে হচ্ছে? আপনি কী বলছেন যে, আপনি তোলা তুলতে আসেন না ? পাণ্ডবেশ্বরে আপনি এত তোলা তোলেন যে, আর কুলটি আসার দরকার নেই। আর যারা দল করবে তারা তোলা তুলতে পারবে, বাকিদেরকে আপনি চাবি দিয়ে দেবেন তাই তো? কোন জায়গায় নিয়ে গেলেন দলটাকে? আপনার মতো লোকেরা নেতা হয়ে গেলে দলের যা অবস্থা হয়, তা মানুষ দেখতেই পাচ্ছে।”

২০২৬-এর নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ঝাঁপানো শুরু করে দিয়েছে শাসক বিরোধী সমস্ত দলই। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় বিজয়া সম্মিলনী করার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে এই বিজয়া সম্মিলনী থেকেই জনসংযোগ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই জনসংযোগেই প্রকাশ্যে চলে এল তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল। দলের জন্য কাজ করতে হবে। দলের টাকা নিয়ে বাইরে ফুর্তি মারলে চাবি মেরে দেওয়া হবে, প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন পান্ডেবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। বিরোধীদের থেকেও কটাক্ষ উড়ে এসেছে। কিন্তু তাতে বিশেষ পাত্তা দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব।