অনুপ চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: খানাকুলে তৃণমুলের অঞ্চল সহ-সভাপতিকে চরম গণধোলাই দেওয়া হল। মদ্যপ অবস্থায় মহিলাদের শ্লীলতাহানি করতে গিয়েই জনরোষের শিকার হয় ওই তৃণমুল নেতা, এমনই দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। যদিও বিজেপির তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই তৃণমূলে নেতা। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে খানাকুলের মাড়োখানায়।

এই ঘটনার পরই তড়িঘড়ি তৃণমুল মাড়োখানা অঞ্চলের সহ-সভাপতি বরুণ মণ্ডলকে খানাকুল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জখম তৃণমুল নেতা বরুণ মণ্ডল সহ খানাকুলের তৃণমূল নেতাদের দাবি, এদিন রাতে বাড়ি ফেরার পথে অতর্কিতে তার উপর হামলা চালায় বিজেপি আশ্রিত দুস্কৃতীরা। খানাকুলের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষের নির্দেশে মারধর চালানো হয় বলে অভিযোগ তৃণমুলের। তৃণমূলের আরও অভিযোগ, এলাকায় তৃণমুলের সক্রিয় কর্মী হিসাবে কাজ করার অপরাধেই এই আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে বরুণ মণ্ডলকে।
পাল্টা অভিযোগ করেছেন বিজেপি কর্মীরা, মদ্যপ অবস্থায় এলাকার মহিলাদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করায় জনরোষের শিকার হয়েছে ওই তৃণমূল নেতাকে। বিজেপি আরও অভিযোগ করেছে, স্থানীয় কয়েকজন নাবালিকা সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরছিল, ঠিক তখনই তাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতা বরুণ মণ্ডল এবং তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। যদিও তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল নেতাকে মারধরের পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই ওই নাবালিকা ও মহিলাদের ব্যবহার করছে বিজেপি। ওই তৃণমূল নেতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন নাবালিকা সহ গ্রামের ২জন মহিলা।
একদিকে দুর্গোৎসবের শেষে মাকে বিদায় জানানোর পালা। বিজয়া দশমীর আবহে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল খানাকুল। শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপি উভয় পক্ষই রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ তারা। দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ জানিয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
২০২৬-এর নির্বাচন দোরগোড়ায়। এই আবহে শ্লীলতাহানি ইস্যুতে উত্তপ্ত খানাকুল। তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে মরিয়া বিজেপি। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে এই চেষ্টা কতটা অক্সিজেন জোগাবে বিরোধী শিবিরকে? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
