মমতার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাকর্মীকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, অভিযোগ অস্বীকার বিজেপি সরকারের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেছেন, মমতার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের (পিএসও) তাঁর কলকাতার বাসভবন থেকে সরিয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে ‘অপমান’ করছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বুধবার সমাজমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করে মহুয়া কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, তিন বার মুখ্যমন্ত্রী এবং সাত বার সাংসদ থাকা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তুলনা করেন।
মহুয়ার বক্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপমানিত করা হচ্ছে এবং ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। অন্য দিকে মোহন ভাগবত বিপুল নিরাপত্তা ও শতাধিক কমান্ডো-গাড়ির সুরক্ষা পাচ্ছেন, যার খরচ বহন করছে সাধারণ মানুষ।’’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার ধর্মতলায় হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি শতাধিক হকার ও সমর্থক ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন। মিছিল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সরব হন আন্দোলনকারীরা।
তৃণমূলের দাবি, জীবিকা ও মর্যাদার প্রশ্নে বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়াতেই এই প্রতিবাদ। দলের তরফে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়েছে, ‘‘বাংলার মানুষের সম্মান ও রুজি-রুটি রক্ষায় আপসহীন লড়াই চলবে।’’ একই সঙ্গে বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূলের অভিযোগ, ক্ষমতার লোভে সাধারণ মানুষের জীবিকা বিপন্ন করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ জুন যাদবপুর স্টেশন রোডে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। প্রশাসনের তরফে একাধিক বুলডোজার নিয়ে রাস্তার ধারের অস্থায়ী দোকান ও হকার স্টল ভেঙে ফেলা হয়। সেই সময় ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া স্থানীয় মানুষ ও হকারেরা বিক্ষোভ দেখান এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জও করা হয়। সেই ঘটনায় কয়েক জন ছাত্র ও সমাজকর্মীও আহত হন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। বিষয়টিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে ভেসে থাকতেই হকার ইস্যুকে হাতিয়ার করছেন মমতা।”
এক দিকে মমতার নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত, অন্য দিকে হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে রাজপথে প্রতিবাদ— দুই ঘটনাকে ঘিরেই রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে রাজ্যে।