তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, তীব্র চাপানোতর

আদালতের দ্বারস্থ কালীঘাট-ঋতব্রত শিবির; শুভেন্দুর তোপ, পাল্টা সুজনের প্রতিক্রিয়া।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার বিষয়টি। জানা গিয়েছে, দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূলের দুই শিবির—কালিঘাট শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা, শুধু প্রায় সাড়ে চারশো কোটি টাকার চলতি অ্যাকাউন্টই নয়, বিভিন্ন ব্যাঙ্কে তৃণমূলের নামে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিটও রয়েছে বলে দাবি উঠেছে। যদিও এই অঙ্কের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সরকারি বা আদালত-স্বীকৃত নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও বিরোধীদের আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বামফ্রন্ট আমলে চাকরি দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর চাকরি দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হচ্ছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক অশান্তি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “দাঙ্গাকারীদের কীভাবে ‘প্রতিবাদী’ বলা যায়?” তাঁর অভিযোগ, সীমাহীন তোষণ, মিথ্যাচার এবং উস্কানির রাজনীতি এখনও তৃণমূলের বদভ্যাস হয়ে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, আইন ভাঙা এবং হিংসায় জড়িতদের কোনওভাবেই প্রতিবাদী হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।

এই ইস্যুতে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়াও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। তিনি বলেন, দুর্নীতি, অর্থের উৎস এবং রাজনৈতিক দলগুলির আর্থিক লেনদেন—সবকিছুরই স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত। একইসঙ্গে কোনও তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার না হয়, সেই বিষয়েও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত এবং যে-ই দুর্নীতিতে জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং তা ব্যবহার করতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে বিজেপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি করছে, অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে আদালতের মাধ্যমে আইনি লড়াই চালানো হচ্ছে। আগামী দিনে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং তদন্তের অগ্রগতি এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।