“সিপিএমের ‘হার্মাদ’ এখন বিজেপির ‘জল্লাদ’। তাদের তৃণমূলের ‘সম্পদ’ হতে দেওয়া যাবে না।“

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ২০১১ সালের আগে এই মেদিনীপুর জেলায় সিপিএমের হার্মাদরা যেভাবে অত্যাচার চালিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে প্রথম রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এই জেলার মানুষই। মেদিনীপুরের সভা থেকে এভাবেই সিপিএমকে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, গড়বেতা, শালবনি, কেশপুর, চন্দ্রকোণা, ঘাটাল ও সবংয়ের বাসিন্দারাই সুশান্ত ঘোষদের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র দুটি আসন রয়েছে বিজেপির। সেই দুটি কেন্দ্রের বিধায়কই তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘রণসংকল্প সভা’য় অভিষেক প্রথমে ওই দুই বিধায়কের নাম না করলেও পরে খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নাম করেন। তারপরই তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড জানিয়ে দেন, ওই দুই বিধায়কের জন্য তৃণমূলের দরজা বন্ধ। কারণ, সিপিএমের ‘হার্মাদ’ এখন বিজেপির ‘জল্লাদ’। তাদের তৃণমূলের ‘সম্পদ’ হতে দেওয়া যাবে না।

অভিষেক বলেন, পশ্চিম মেদিনীপুরের বিজেপির মডেল হল, নীচে সিপিএমের হার্মাদ, উপরে বিজেপির গদ্দার। যাঁরা একসময় সিপিএমে থেকে বাংলার হাজার হাজার মানুষকে সন্ত্রস্ত করে রাখতো, আজ তারাই বিজেপির নেতা।
অভিষেক বলেন, “গত২৫ বছরে কখনও কংগ্রেস, কখনও তৃণমূলের কর্মীদের উপর একের পর এক নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছে। পুকুরে বিষ দেওয়া হয়েছে, ঘর বন্ধ করে রেখে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। মেদিনীপুরের ইতিহাস নতুন করে মনে করানোর প্রয়োজন নেই। “

এরপরই কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, “গত বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলার ১৫টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। খড়গপুর সদর ও ঘাটালে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। এবার ১২-৩ বা ১৪-১ নয়, ১৫-০ ফল করতে হবে।“
সিপিএমকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, ৩৪ বছর ধরে যারা মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়েছে, আজ তারাই বিজেপির নেতা। তাঁর কটাক্ষ, বোতলের ছিপি নতুন হলেও মদ পুরনো। শুধুমাত্র জার্সি বদল হয়েছে।

এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা ১৫ জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ১৯ জানুয়ারি করা হয়েছে। এই নিয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকেন নিশানা করে অভিষেকের মন্তব্য, এই চারদিনে বিজেপির লোকজন যদি ১০টির বেশি ফর্ম নিয়ে ERO অফিসে যায়, তবে ডিজে শোনান।