বোরখা না পরায় স্ত্রীকে খুন

ফের উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এবার বোরখা না পরায় স্বামীর হাতে খুন হতে হল স্ত্রীকে। রেহাই পেলেন না তাঁদের দুই নাবালিকা কন্যাও। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে শামলীর গড়ি দৌলত গ্রামে। এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে দেহগুলি উদ্ধার করে। গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকেও। ধৃত ব্যক্তির নাম ফারুক। সে একজন চরমপন্থী ধর্মীয় ব্যক্তি ছিল। গ্রেফতারির পর অভিযুক্ত ব্যক্তি তার অপরাধ কবুল করেছে। তল্লাশি অভিযানে তাঁর থেকে উদ্ধার হয়েছে বন্দুকও।

দীর্ঘ দুই মাস ধরে বোরকা ও ঘোমটা পরা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাদ চলছিল। স্ত্রী এই প্রথা মানতে অস্বীকার করায় ঝামেলার সূত্রপাত। গতমাসে এই বিবাদের কারণে সে দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যায়। চলতি মাসের প্রথমদিকে সে কোনওভাবে তিনজনকে ফিরিয়ে আনে। বাড়ি আসার পর ফের শুরু হয় ঝামেলা। গত ১০ ডিসেম্বর অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে তার স্ত্রীর মাথায় গুলি করে। এরপর সে তার বড় মেয়েকে গুলি এবং ছোট মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। প্রমাণ লোপাটের জন্য তিনটি দেহেই মাটিতে পুঁতে দেয় সে।

ফারুকের বাড়ির পাশের গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান থাকতেন। আচমকা তিনজনকে কয়েকদিন ধরে দেখতে না পাওয়ায় সন্দেহ হয় তাঁর। এমনকী ফারুকে সন্দেহজনক আচরণস দেখেই পুলিশে খবর দেন তিনি। বুধবার পুলিশ দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল ও কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করেছে তদন্তকারীরা। এদিকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই ব্যক্তি এতটাই কট্টরপন্থী ছিল যে, স্ত্রীর ছবি তুলতে হবে এই ভয়ে সে কখনও কোনো সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাও নেয়নি।