ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতিকে ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করে মার্কিন সুপ্রিমকোর্ট। তাতেই ক্ষোভ উগরে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আবারও তাঁর নতুন শুল্কনীতির পক্ষে সরব হলেন। বুধবার State of the Union ভাষণে শুল্ক আরোপ, আয়কর কাঠামো এবং সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের রায়—এই তিনটি বিষয়কে এক সুতোয় বেঁধে আক্রমণ শানালেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে তিনি সরাসরি “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক” বলে আখ্যা দেন।
গত শুক্রবার (Supreme Court of the United States) ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতিকে ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করে মার্কিন সুপ্রিমকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া আমদানিকৃত পণ্যের উপর ব্যাপক শুল্ক চাপিয়ে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। রায়ে স্পষ্ট বলা হয়, এ ধরনের সিদ্ধান্তে আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের।”
কিন্তু সেই রায়ের প্রেক্ষিতেই আরও আক্রমণাত্মক সুর শোনা গেল ট্রাম্পের কণ্ঠে। তাঁর দাবি, “বহু বছর ধরে অন্যান্য দেশ আমেরিকাকে নিংড়ে নিয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা তা জানেন, কিন্তু মুখে আনেন না। আমরা চুক্তি করেছি। সব চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ওরাও খুশি, আমরাও খুশি। তারা এখন প্রচুর টাকা উপার্জন করছে। এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতেই শুল্ক ধার্য হয়েছে এবং তা আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।”
আয়কর প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, “অন্যান্য দেশগুলির থেকে আদায় করা শুল্কই ভবিষ্যতে আমেরিকার ‘আধুনিক আয়কর ব্যবস্থার’ বিকল্প হতে পারে। অর্থাৎ, শুল্ক থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের মাধ্যমে আমেরিকান নাগরিকদের আয়করের বোঝা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।”
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে,“ শুল্ক থেকে আয়করের পূর্ণ বিকল্প তৈরি করা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।”
সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, “রায়ের আগে তাঁর যে আইনি ক্ষমতা ছিল, এখন তা আরও কয়েক গুণ বেড়েছে।” তাঁর বক্তব্য, প্রায় সব দেশই এখন আমেরিকার সঙ্গে করা চুক্তি বজায় রাখতে আগ্রহী। কারণ, প্রেসিডেন্ট হিসাবে নতুন চুক্তি করার যে ক্ষমতা তাঁর রয়েছে, তা অন্য দেশগুলির পক্ষে “অত্যন্ত কঠিন” হতে পারে। এমনকি তিনি সতর্ক করেন, কোনও দেশ যদি আদালতের নির্দেশকে ঢাল করে আমেরিকার সঙ্গে ‘খেলতে’ চায়, তবে তার ফল ভয়ঙ্কর হবে। প্রয়োজনে আরও শুল্ক আরোপ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের স্পষ্ট দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসাবে আন্তর্জাতিক শুল্ক নির্ধারণে তাঁর কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন নেই। জাতীয় জরুরি অবস্থার আইনি কাঠামোকেই তিনি হাতিয়ার করেছেন বলে জানান। তবে আদালতের সাম্প্রতিক রায় সেই অবস্থানকে সাংবিধানিক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সব মিলিয়ে, শুল্কনীতি ঘিরে হোয়াইট হাউস ও সুপ্রিম কোর্টের সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস ও আদালতের বৃহত্তর সাংবিধানিক লড়াইয়ের দিকে গড়াতে পারে। তার মধ্যেই ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিলেন—পিছু হটার কোনও ইঙ্গিত নেই।